এক ধাক্কায় ৩৩ শীর্ষ আধিকারিককে বহিষ্কার! শি জিনপিঙের ‘শুদ্ধিকরণ’ নাকি চরম স্বৈরাচার?

বেইজিংয়ে কমিউনিস্ট পার্টির পঞ্চম প্লেনামের সমাপ্তির পরই প্রশাসন ও সামরিক নেতৃত্বে বড়সড় রদবদল ঘটালেন চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দুর্নীতি ও শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তুলে এক ধাক্কায় বহিষ্কার করা হয়েছে ১৭ জন উচ্চপদস্থ দলীয় ও সরকারি কর্তা এবং ১৬ জন সামরিক কর্মকর্তাসহ মোট ৩৩ জন শীর্ষ আধিকারিককে। বহিষ্কৃতদের এই তালিকায় রয়েছেন পলিটব্যুরোর প্রাক্তন সদস্য মা শিংরুই, সামরিক বাহিনীর প্রাক্তন শীর্ষ নেতা ঝাং ইউশিয়া এবং জিনপিঙের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ঝং শাওজুন। গত বছর চতুর্থ পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনের পর ১৪ জনকে সরানোর পর, এবার বহিষ্কারের এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ায় আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, প্রশাসনের অভ্যন্তরে শুদ্ধিকরণ অভিযানের অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। তবে ওয়াকিবহাল মহলের বড় অংশের মতে, ক্ষমতার কাঠামোয় নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রাখতে এবং বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন জিনপিং। বিশেষ করে চিনা প্রেসিডেন্টের বিশ্বস্ত সহযোগীদের অপসারণ এবং খোদ সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাটি গদি হারানোর আশঙ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সব মিলিয়ে, চিনের রাজনৈতিক ও সামরিক ময়দানে জিনপিঙের এই ব্যাপক সাফাই অভিযান বিশ্বজুড়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জল্পনা তৈরি করেছে।