ভুটানে হিমবাহ হ্রদ ভেঙে প্রবল হড়পা বান, প্রযুক্তির নজরদারিতে রক্ষা পেল বহু প্রাণ

ভুটানের বিপজ্জনক সিনতাপু হিমবাহ হ্রদ ফেটে প্রবল বেগে নেমে আসা হড়পা বানে ভেসে গিয়েছে পথঘাট, ঘরবাড়ি, উষ্ণ প্রস্রবণ ও গবাদিপশু। উত্তর ভুটানের গাসা ও পুনাখা জেলায় ‘মো চু’ নদীর উপচে পড়া জলরাশি লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে বিস্তীর্ণ এলাকা। তবে পাহাড়ি হ্রদগুলিতে বসানো আধুনিক পর্যবেক্ষণ প্রযুক্তি এবং তড়িঘড়ি সাইরেন বাজিয়ে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ফলে বড়সড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। ‘সাইফনিং’ পদ্ধতির মতো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে জলস্তর কমানোর আগাম নজরদারিই এই বিপর্যয়ে মানবজীবন বাঁচাতে বড় ভূমিকা নিয়েছে।
তবে ভুটানে জল নেমে আসার জেরে নেমে এসেছে নতুন শঙ্কা, সিনতাপু হ্রদের জলে ভেসে আসা মাটি ও পাথরে কৃত্রিম বাঁধ তৈরি হওয়ায় আবারও প্লাবনের বিপদ দেখা দিতে পারে। ভুটান প্রশাসনের সতর্কবার্তার পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম রাজ্য প্রশাসনও প্রস্তুত রয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে ডুয়ার্সের আলিপুরদুয়ার জেলার নদী সংলগ্ন এলাকা থেকে অন্তত ১২ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাহাড়ি নদীর জলস্তর আপাতত স্বাভাবিক থাকলেও সংকট পুরোপুরি কাটেনি, ফলে ভারত ও ভুটান উভয় দেশের নদী উপত্যকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।