সোশ্যাল মিডিয়া ও গেমিং জগতে পাচারকারীদের ফাঁদ!

হাওড়া স্টেশনকে ব্যবহার করে নারী পাচার, উদ্ধার শতাধিক নাবালিকা-তরুণী
হাওড়া: হাওড়া স্টেশনকে ব্যবহার করে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন প্রান্তে নাবালিকা ও তরুণীদের পাচারের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। বিগত তিন মাসে রেল সুরক্ষা বাহিনী (আরপিএফ)-এর অ্যান্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং ইউনিট (এএইচটিইউ) হাওড়া স্টেশন থেকে একশোর বেশি নাবালিকা ও তরুণীকে উদ্ধার করেছে। এই ঘটনা তদন্তকারীদের রীতিমতো উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
উদ্ধার হওয়া কিশোরী ও তরুণীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গেছে, তারা সুন্দরবন, ক্যানিং, হাবড়া, বনগাঁ, কৃষ্ণনগর, মুর্শিদাবাদ সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসছে। এমনকি আসাম, ত্রিপুরা সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও তাদের আনা হচ্ছে। তাদের সকলেরই ইনস্টাগ্রামে প্রোফাইল রয়েছে এবং অনেকেরই অনলাইন ভিডিও গেম খেলার নেশা আছে।
তদন্তে জানা গেছে, এই তরুণীদের ইনস্টাগ্রাম বা অনলাইন গেমের মাধ্যমে একদল যুবক বন্ধুত্ব পাতিয়েছে। এরা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত চাকুরে বা বড় ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে তাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলে। এরপর মোবাইল নম্বর আদানপ্রদান এবং গভীর রাত পর্যন্ত মেসেজ চালাচালির মাধ্যমে তাদের বিশ্বাস অর্জন করে। পরে মডেলিং, সিনেমা জগৎ বা ভিন রাজ্যে, এমনকি বিদেশে ভালো বেতনের চাকরির লোভ দেখিয়ে বা বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে তাদের পাচারের ফাঁদে ফেলা হয়।
আরপিএফ-এর এএইচটিইউ ইউনিট তাদের গতিবিধি দেখে সন্দেহ হওয়ায় এই নাবালিকা ও তরুণীদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পাচার চক্রের পরিকল্পনা উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। পাচারকারীরা মূলত সোশ্যাল মিডিয়া এবং অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তরুণীদের লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। এরপর তাদের মগজ ধোলাই করে পরিবারের কাছ থেকে বের করে নিয়ে এসে হাওড়া স্টেশনকে ব্যবহার করে অন্য রাজ্যে পাঠিয়ে দিচ্ছে। তবে চক্রের মূল হোতাদের নয়, বরং দালালরাই স্টেশন থেকে এদের সংগ্রহ করে পাচার চক্রের প্রধানদের হাতে তুলে দিচ্ছে।
আরপিএফ কর্তৃপক্ষ পাচার চক্রের এই সিন্ডিকেট ভাঙতে নজরদারি বাড়িয়েছে এবং তল্লাশির উপর জোর দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইন গেমিংয়ের সূত্র ধরে পাচার চক্রের পাণ্ডাদের চিহ্নিত করার কাজও চলছে।