সাপের ওপর দেবী, অমাবস্যার গাঢ় রাতে মন্দির ছেড়ে বেরিয়ে আসেন মা গুহ্যকালী

সাপের ওপর দেবী, অমাবস্যার গাঢ় রাতে মন্দির ছেড়ে বেরিয়ে আসেন মা গুহ্যকালী

বীরভূমের ভদ্রপুর গ্রামের আকালিপুরে ব্রাহ্মণী নদীর তীরে মহাশ্মশানের পাশে অবস্থিত মা গুহ্যকালীর প্রাচীন মন্দির। জনশ্রুতি রয়েছে, মহাভারতের যুগে সম্রাট জরাসন্ধের গুপ্ত সাধনা থেকে দেবীর নাম হয় গুহ্যকালী। বহু বছর পর মহারাজা নন্দকুমার স্বপ্নাদেশ পেয়ে কাশীরাজের সহায়তায় গঙ্গায় বিসর্জিত কষ্টিপাথরের কৃষ্ণবর্ণ বিগ্রহ উদ্ধার করে এখানে তান্ত্রিক মতে অষ্টকোণাকার মন্দির নির্মাণ করেন। দশমহাবিদ্যার প্রচলিত কালীমূর্তির সঙ্গে এই দ্বিভুজা রূপের অনেকটাই পার্থক্য রয়েছে, যেখানে শত ফণাধারী সর্পের ওপর আসীন মায়ের গলায় মুণ্ডমালা ও এক হাতে অভয় মুদ্রা বিরাজমান।

দীপাবলির অমাবস্যার গাঢ় রাতে এই মন্দিরে কোনো জাঁকজমকপূর্ণ পুজো হয় না, কারণ সাধকদের বিশ্বাস স্বয়ং দেবী এ দিন কষ্টিপাথরের রূপ পেরিয়ে গর্ভগৃহ ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। নদীর ধারের বাতাসে কাসর-ঘণ্টার বদলে তখন শুধু অলৌকিক নূপুরধ্বনি ভেসে আসে বলে গ্রামবাসী ও ভক্তদের মনে গভীর শিহরণ জাগায়। মূলত প্রতি বছর আশ্বিন মাসের শুক্ল চতুর্দশী এবং মাঘ মাসের কৃষ্ণ চতুর্দশীতেই এই নির্জন শাক্ত পীঠে মায়ের বিশেষ তান্ত্রিক আরাধনার আয়োজন করা হয়ে থাকে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *