ঢাকার আন্দোলনে প্রাণ গেল পোশাক শ্রমিকের, দায় এড়াতে মরিয়া পুলিশ!

গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলন অব্যাহত: সংঘর্ষে শ্রমিকের মৃত্যু, ১০ হাজার জনের বিরুদ্ধে মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বুধবারও গাজীপুর, আশুলিয়া ও সাভারসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক শ্রমিক অসন্তোষের জেরে অসংখ্য কারখানা বন্ধ রয়েছে। এরই মধ্যে সংঘর্ষে তৌফিক নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
নিহত শ্রমিকের মৃত্যু নিয়ে দুই ধরনের ভাষ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের দাবি, বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের হামলায় তৌফিক আহত হন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অন্যদিকে, শ্রমিকদের অভিযোগ, পুলিশের নির্বিচার লাঠিচার্জ ও রাস্তায় ফেলে মারধরের ফলে তৌফিক গুরুতর জখম হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
গত ১ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে বুধবার সকালে সাভারের হেমায়েতপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করেছে। গত তিন দিনে এ ঘটনায় প্রায় ১০ হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শ্রমিকদের দাবি না মানায় অধিকাংশ কারখানা মালিকপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছেন। শ্রমিকদের বেতন নির্ধারণে সরকার নতুন বোর্ড গঠন করলেও আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে, সরকারি পর্যায়ে এ আন্দোলনের পেছনে ‘বহিরাগত ইন্ধন’ থাকার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদসহ সরকারের নীতিনির্ধারক ও বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে আওয়ামী লীগকে পুনর্জাগরণের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, আন্দোলনরত শ্রমিকদের মধ্য থেকে ইতিমধ্যে শেখ হাসিনার দলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।