এল নিনোর ধাক্কায় কমছে ইথানল মিশ্রণ? পেট্রোল ও খাদ্য সুরক্ষা নিয়ে বড় আপডেট

এক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন বর্ষা ও এল নিনোর প্রভাবে দেশে ভুট্টা এবং আখের ফলন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে কাঁচামালের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় চিনি ও ভুট্টার দাম প্রায় ৪০ শতাংশ এবং চালের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্রমবর্ধমান খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি সামাল দিতে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেন্দ্র চিনি ও ভুট্টার ব্যবহারে কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এর ফলে পেট্রোলে ইথানল মেশানোর যে উচ্চাভিলাষী ই২০ (E20) কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা ছিল, তা ধাক্কা খেতে বসেছে। কাঁচামালের আকাশছোঁয়া দাম ও সংকট জ্বালানি আমদানির নির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনায় বাধা সৃষ্টি করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানির চেয়ে খাদ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতিতে হেঁটে পেট্রোলে ইথানলের মিশ্রণ বর্তমান ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ থেকে ১৭ শতাংশ করা হতে পারে। ২০১৪ সাল থেকে ইথানল মিশ্রণ কর্মসূচির মাধ্যমে ভারত প্রায় ২ ট্রিলিয়ন টাকার তেল আমদানি সাশ্রয় করতে সক্ষম হলেও, বর্তমান প্রাকৃতিক দুর্যোগ সেই গতি থামিয়ে দিয়েছে। ইথানল উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন সংস্থা বিপুল ঋণ নিয়ে উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ালেও কাঁচামাল সংকট ডিস্টিলারিগুলোর ওপর মারাত্মক আর্থিক চাপ তৈরি করছে। পরিস্থিতি পুরোপুরি নির্ভর করছে ভুট্টার বাজারদরের ওপর, যদিও সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ইথানল হ্রাস নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেনি।