ট্রাম্পের দুই মন্ত্রীর পদত্যাগের গুঞ্জন, কী জানালো হোয়াইট হাউজ?

ইরান যুদ্ধ ও নির্বাচনী পরাজয় নিয়ে চাপে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথ; অভিশংসনের হুমকি
ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির বড় ধরনের পরাজয়ের পর তীব্র রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ইরান যুদ্ধ পরিচালনায় তার ভূমিকা ও এর ফলে সৃষ্ট নেতিবাচক পরিস্থিতির দায়ভার নিয়ে খোদ রিপাবলিকান শিবিরের মধ্যেই তাকে সরানোর দাবি উঠেছে।
সূত্রের খবর, বিদায়ী এক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য আগামী সপ্তাহের মধ্যেই হেগসেথের বিরুদ্ধে অভিশংসন ভোট আয়োজনের হুমকি দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে রিপাবলিকান প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি জানিয়েছেন, তিনি আগামী সপ্তাহের শুরুতেই প্রতিরক্ষামন্ত্রীর অভিশংসনের প্রস্তাব উত্থাপন করবেন। তার মতে, জানুয়ারি মাসে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত নতুন কংগ্রেস গঠিত হওয়ার আগেই প্রেসিডেন্টের উচিত হেগসেথকে সরিয়ে দেওয়া।
তবে এই চাপের মুখেও নিজের অবস্থানে অনড় হেগসেথ। এক ভিডিও বার্তায় তিনি নিজের কর্মকাণ্ডের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেছেন, “তারা আমাকে আক্রমণ করছে কারণ আমরা কাজ করতে সক্ষম। আমরা পিছু হটব না।” তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিশংসন প্রস্তাবকে ‘রাজনৈতিক নাটক’ ও ‘ব্যক্তিগত ধ্বংসের রাজনীতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য প্রকাশ্যে তার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানিয়েছেন, হেগসেথকে পদে রাখার ‘পুরো ইচ্ছা’ তার রয়েছে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি আরও বলেন, ভেনেজুয়েলার নেতা নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেপ্তার এবং ইরান যুদ্ধের মতো বিষয়গুলোতে হেগসেথ অসাধারণ কাজ করেছেন। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধের কৌশলগত ব্যর্থতার জেরে ট্রাম্প জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বা সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারকে পরিবর্তনের কথা বিবেচনা করছেন।
এদিকে, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও পদত্যাগ করতে পারেন বলে যে গুঞ্জন উঠেছিল, তা দৃঢ়ভাবে নাকচ করেছে হোয়াইট হাউস এবং পররাষ্ট্র দপ্তর। উভয় পক্ষই এ ধরনের খবরকে ‘ভুয়া’ বলে অভিহিত করেছে। নিউ ইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রুবিও স্পষ্ট করেছেন যে, ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়াই তার পরিকল্পনা।
উল্লেখ্য, এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেট—উভয়েরই পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অর্জন করেছে। ট্রাম্প ও ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উভয়ই ইরান যুদ্ধকে এই পরাজয়ের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ঘিরে সংশয় ক্রমশ বাড়ছে।