জ্যোতি বসুকে নিয়ে বিমানেই বিতর্ক, দিলীপের তোপে সরগরম রাজ্য রাজনীতি!

শিল্পনীতি ও সিঙ্গুর জমি নিয়ে আক্রমণ দিলীপ ঘোষের, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পদক্ষেপের প্রশংসা
নিজস্ব প্রতিবেদন: রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের সময়কার শিল্পনীতি নিয়ে বিমান বসুর সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করলেন দিলীপ ঘোষ। একই সঙ্গে তিনি রাজ্যের বর্তমান শিল্পায়ন ও কর্মসংস্কৃতি ফেরাতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেওয়া কড়া পদক্ষেপের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
বিমান বসুর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে দিলীপ ঘোষ বলেন, “জ্যোতি বসু কি পার্টির বাইরে ছিলেন? তিনি পার্টির যে ভিত তৈরি করেছিলেন, তার ওপর দাঁড়িয়েই বাকিরা দীর্ঘদিন সরকার পরিচালনা করেছেন। কিন্তু দলের সিদ্ধান্ত যখন অপ্রিয় হয়ে উঠল, তখন সমস্ত দায় তাঁর ওপর চাপিয়ে অন্য একজনকে পদে বসানো হয়েছে। তবে ইতিহাস ইতিহাসই, আমরা সেই পুরনো বিতর্কে আর যেতে চাই না।”
রাজ্যের বর্তমান শিল্প পরিবেশ নিয়ে বলতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ কর্মসংস্কৃতি ফেরানোর ওপর জোর দেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কারখানার গেটে গুন্ডামি বা তোলাবাজি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। দিলীপ ঘোষ বলেন, “বছরের পর বছর ধরে বাংলায় কাজের পরিবেশ নষ্ট করা হয়েছে। সামান্য বিষয়ে স্লোগান তুলে কারখানা বন্ধ করার সংস্কৃতি শেষ হতে হবে। হাজার হাজার শ্রমিকের ভবিষ্যৎ বিপন্ন করে মাস্তানি করার দিন শেষ। বর্তমান সরকারের বাস্তবমুখী শিল্পনীতির হাত ধরে রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ আসবে।”
সিঙ্গুরের অব্যবহৃত জমি নিয়ে রাজ্য সরকারের নতুন ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। দিলীপ ঘোষ জানান, ডানকুনি থেকে জাতীয় সড়ক বরাবর প্রায় দুই হাজার একর জমি দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে আছে। টাটাদের চলে যাওয়ার পর সেখানে না হচ্ছে চাষ, না গড়ে উঠছে কারখানা। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এত মূল্যবান সম্পত্তি দিনের পর দিন ফেলে রাখা যুক্তিসঙ্গত নয়। সিঙ্গুরে নতুন করে শিল্প স্থাপন করতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত সচেষ্ট। টাটা বা অন্য কোনো বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীকে সেখানে ফিরিয়ে এনে কর্মসংস্থানের জোয়ার আনাই সরকারের মূল লক্ষ্য।”
পরিশেষে দিলীপ ঘোষ আশাপ্রকাশ করেন যে, রাজ্যের নতুন আধুনিক শিল্পনীতি ও কঠোর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ফলে আগামী দিনে বাংলায় জোরকদমে শিল্পায়ন ঘটবে এবং যুবসমাজ নতুন দিশা পাবে।