১০৩ বছর পর বদলে গেল বড়মার মন্দিরের বাণী, নেপথ্যে বিধায়কের বিস্ফোরক যুক্তি!

নৈহাটির বড়মার মন্দিরের নামফলকে বদল, ‘সনাতনের শক্তি’ নিয়ে স্পষ্ট করলেন বিধায়ক
নৈহাটি: ১০৩ বছরে পদার্পণ করা নৈহাটির সুপ্রসিদ্ধ বড়মার মন্দিরের নামফলকে এল পরিবর্তন। মন্দিরের নতুন নামফলকে লেখা হয়েছে— ‘বড়মায়ের ভক্তি, সনাতনের শক্তি’। এই পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে চর্চা শুরু হলেও, মন্দির কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বিধায়ক বিষয়টির সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার নতুন নামফলক উন্মোচন করেন মন্দির কমিটির সভাপতি তথা বিজেপির ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তাপস ঘোষ এবং নৈহাটির বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। এই পরিবর্তনের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তাপস ঘোষ জানান, ‘সনাতন’ শব্দের অর্থ ‘আদি’। ভক্তদের দীর্ঘদিনের দাবি এবং মন্দির কমিটির সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতেই এই নতুন সংযোজন করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “ভক্তরা নিজেদের অধিকার আরও বেশি প্রতিষ্ঠা করতে চাইছিলেন, সেই তাগিদ থেকেই এই নামফলক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত।”
একই সুর শোনা গেছে নৈহাটির বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের গলায়। তিনি বলেন, “নৈহাটিবাসী দীর্ঘদিন ধরেই চেয়েছিলেন সনাতনীদের একটি ট্যাগ লাইন থাকুক। এই পুজো ও মন্দিরে সনাতনীদের অধিকার বেশি, তাই বিষয়টি নামফলকে তুলে ধরা হয়েছে।” তবে এই পরিবর্তনের ফলে মন্দিরে সর্বজনীনতার বার্তা খর্ব হবে কি না বা অন্য ধর্মের মানুষের প্রবেশাধিকার থাকবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে বিধায়ক জানান, “মন্দিরে যে কোনো ধর্মের মানুষ আসতেই পারেন, কিন্তু পুজোর যাবতীয় দায়িত্ব ও ব্যবস্থাপনা পুরোপুরি সনাতনীদের হাতেই থাকবে।”
উল্লেখ্য, ১০৩ বছরে পা দেওয়া এই বড়মার পুজোয় এবছর বেশ কিছু নিয়মের পরিবর্তন আনা হয়েছে। মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ৭ থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত মন্দিরের দরজা দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ থাকবে। এই সময়ে প্রতিমা সজ্জা, পূজা ও বিসর্জনের আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। এই নির্দিষ্ট দিনগুলোতে ভক্তদের দর্শনের সুযোগ থাকছে না বলে মন্দির কমিটির তরফে জানানো হয়েছে।