গম্ভীরের জাদুকরী ছোঁয়ায় বদলে গেল কেকেআর, ড্রেসিংরুমের অন্দরের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস!

তৃতীয় আইপিএল জয়ের নেপথ্যে কেকেআরের ‘ক্ষুধার্ত সিংহ’ মানসিকতা: ভেঙ্কটেশ আইয়ার
নিজস্ব প্রতিবেদন: কলকাতা নাইট রাইডার্সের (কেকেআর) তৃতীয়বার আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার নেপথ্যে দলের খেলোয়াড়দের আক্রমণাত্মক মানসিকতা ও মেন্টর গৌতম গম্ভীরের কৌশলগত দূরদর্শিতা ছিল মূল চালিকাশক্তি। সম্প্রতি প্রখ্যাত ধারাভাষ্যকার আকাশ চোপড়ার পডকাস্টে দলের সাফল্যের সেই রুদ্ধশ্বাস অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন কেকেআর তারকা ভেঙ্কটেশ আইয়ার।
ভেঙ্কটেশ জানিয়েছেন, ড্রেসিংরুমে খেলোয়াড়দের মধ্যে এক দারুণ সুস্থ প্রতিযোগিতা ও জেতার জেদ কাজ করত। সুনীল নারিন ও ফিল সল্ট ওপেন করতে নামার পর থেকেই ডাগআউটে থাকা ব্যাটাররা যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতেন। তিনি বলেন, “ম্যাচের দ্বিতীয় ওভার থেকেই আমরা সবাই প্যাড পরে তৈরি থাকতাম। সবার মনে একটাই তাগিদ থাকত, কখন ডাক আসবে! ডাগআউটের পরিবেশ দেখে মনে হতো সবাই যেন শিকারের অপেক্ষায় থাকা ক্ষুধার্ত সিংহ। সবাই বলত—শুধু আমাদের একবার মাঠে পাঠাও, বাকিটা আমরা দেখে নেব।” যদিও ওপেনারদের দাপুটে ব্যাটিংয়ের কারণে অনেকেরই সুযোগ পাওয়ার প্রয়োজন পড়ত না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দলের এই আগ্রাসী মানসিকতার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব গৌতম গম্ভীরকে দিয়েছেন ভেঙ্কটেশ। তাঁর ভাষ্যমতে, মেন্টর গম্ভীর ড্রেসিংরুমে এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছিলেন, যেখানে ব্যর্থতার ভয় ছিল না, কিন্তু পারফরম্যান্সের মান নিয়ে কোনো আপস করা হতো না। পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী গম্ভীর ম্যাচের রীতিনীতি ও ব্যাটিং কম্বিনেশন নিয়ে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতেন। ভেঙ্কটেশ বলেন, “গম্ভীর স্যার ডাগআউটে আমাদের পাশেই থাকতেন। সবাই জানত, এখানে সাধারণ পারফরম্যান্সের কোনো জায়গা নেই। ঢিমেতালে বা বাজে শট খেলে এসে তাঁর পাশে বসা আসাম্ভব ছিল।”
গম্ভীরের কোনো কঠোর নিয়মের বেড়াজাল না থাকলেও, তাঁর ব্যক্তিত্ব ও প্রত্যাশা দলের খেলোয়াড়দের শরীরী ভাষা পুরোপুরি বদলে দিয়েছিল বলে মনে করেন ভেঙ্কটেশ আইয়ার। এই সুশৃঙ্খল অথচ আক্রমণাত্মক মানসিকতাই কেকেআরকে তাদের ঐতিহাসিক তৃতীয় ট্রফি জয়ে সাহায্য করেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।