TCS-এ সেক্স স্ক্যান্ডাল! পর্দাফাঁস করতে ৪০ দিনের ‘আন্ডারকভার’ অপারেশনে ৬ নারী পুলিশ

আইটি জায়ান্ট টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেসের (টিসিএস) নাসিক ইউনিটে চাঞ্চল্যকর যৌন হেনস্তা ও ধর্ষণের অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। দীর্ঘ ৪০ দিনের এক রুদ্ধশ্বাস আন্ডারকভার অপারেশন চালিয়ে এই চক্রের পর্দাফাঁস করেছেন মহারাষ্ট্র পুলিশের ৬ জন আসাম সাহসী নারী সদস্য। ঘটনার ভয়াবহতা এবং পেশাদার কর্মক্ষেত্রে নারী নিরাপত্তা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
অপারেশন আন্ডারকভার: সাহসিকতার নেপথ্য কাহিনী
ফেব্রুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে পুলিশের কাছে টিসিএসের নাসিক অফিসে নারী কর্মীদের ওপর অকথ্য নির্যাতনের গোপন তথ্য আসে। এরপর নাসিকের পুলিশ কমিশনার সন্দীপ কর্নিক একটি বিশেষ পরিকল্পনা করেন। সাধারণ কর্মীদের ছদ্মবেশে ছয়জন নারী পুলিশ সদস্যকে অফিসের ভেতরে নিয়োগ করা হয়। টানা ৪০ দিন ধরে তারা সেখানে কাজ করার পাশাপাশি নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালান।
- গোপন নজরদারি: নারী পুলিশ সদস্যরা সাধারণ কর্মীর মতো আচরণ করে অভিযুক্তদের গতিবিধি ও কথা বলার ধরণ পর্যবেক্ষণ করেন।
- তথ্য সংগ্রহ: মিটিং রুম বা ওয়ার্ক স্টেশনে নারী কর্মীদের সঙ্গে ঠিক কী ধরণের অশালীন আচরণ করা হতো, তার বিস্তারিত নোট তারা নিয়মিত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাঠাতেন।
- প্রমাণ সংগ্রহ: নির্যাতিতাদের দেওয়া অভিযোগের সত্যতা আন্ডারকভার পুলিশ সদস্যদের তথ্যের সাথে মিলে গেলে চূড়ান্ত অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ
গত ২৬শে মার্চ প্রথম এক নারী কর্মী একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। এরপর আরও আটজন ভুক্তভোগী প্রকাশ্যে আসেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) একাধিক ধারায় মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ধারা ৬৯ (ধর্ষণ), ধারা ৭৫ (যৌন হেনস্তা), ধারা ৭৮ (পিছু নেওয়া) এবং ধারা ২৯৯ (ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত)।
ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও বর্তমান অবস্থা
তদন্তে অফিসের এইচআর ম্যানেজারের ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ভুক্তভোগীরা ইমেলের মাধ্যমে অভিযোগ জানালেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ওই এইচআর ম্যানেজারসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। টিসিএস কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে সাতজন অভিযুক্তকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে এবং পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
প্রভাব ও কর্পোরেট সংস্কৃতিতে বিতর্ক
এই ঘটনা ভারতের আইটি সেক্টরের সুরক্ষিত বলয় নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে যখন ভুক্তভোগীদের ইমেল এড়িয়ে যাওয়া হয়, তখন প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নৈতিকতা কাঠামোর দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবে পুলিশের এই অভিনব তদন্ত পদ্ধতি জনমনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং কর্মক্ষেত্রে অপরাধীদের জন্য একটি কড়া বার্তা দিয়েছে।
একঝলকে
- অভিযুক্ত: মোট ৮ জন (৭ জন বহিষ্কৃত, ১ জন এইচআর ম্যানেজার পুলিশ হেফাজতে)।
- অভিযোগ: ধর্ষণ, যৌন হয়রানি ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত।
- তদন্তের ধরণ: ৪০ দিনের আন্ডারকভার পুলিশ অপারেশন।
- আইনি পদক্ষেপ: বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠন এবং বিএএনএস (BNS) ধারায় মামলা।
- কো ম্পা নির অবস্থান: টিসিএস জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে অভিযুক্তদের বরখাস্ত করেছে।