২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে ২০০ কোটি লিভার রোগী! ল্যানসেটের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বে ২০০ কোটি লিভার রোগী! ল্যানসেটের রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিশ্বজুড়ে লিভার বা যকৃতের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। সম্প্রতি ‘দ্য ল্যানসেট গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি অ্যান্ড হেপাটোলজি’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্র থেকে জানা গেছে, ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৩০ কোটি মানুষ ‘মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিটোটিক লিভার ডিজিজ’ (MASLD) নামক ব্যাধিতে ভুগছেন। গত চার দশকে এই রোগের প্রাদুর্ভাব প্রায় ১৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০৫০ সালের ভয়াবহ পূর্বাভাস

গবেষকদের মতে, ১৯৯০ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে লিভারের এই বিশেষ সমস্যায় আক্রান্তের হার প্রায় ১৪৩ শতাংশ বেড়েছে। ‘গ্লোবাল বার্ডেন অফ ডিজিজ’ (GBD) ২০২৩-এর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা এই গবেষণায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে এই রোগীর সংখ্যা ১৮০ কোটি ছাড়িয়ে প্রায় ২০০ কোটির কাছাকাছি পৌঁছে যাবে।

লিভারের সমস্যা বাড়ার নেপথ্য কারণ

বিশেষজ্ঞরা এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য মূলত মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন। এই সংকটের পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো:

  • অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাস।
  • স্থূলতা বা ওবেসিটির ক্রমবর্ধমান হার।
  • হাই ব্লাড সুগার বা ডায়াবেটিসের প্রকোপ।
  • বিশ্বজুড়ে দ্রুত নগরায়ণ এবং কায়িক শ্রমের অভাব।

আঞ্চলিক প্রভাব ও ঝুঁকির মাত্রা

গবেষণায় দেখা গেছে, উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এই রোগের হার বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি। উন্নয়নশীল এবং মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই রোগের প্রভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। যদিও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির ফলে এই রোগে মৃত্যুর হার কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়ছে। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, দীর্ঘমেয়াদী এই সংক্রমণ ভবিষ্যতে লিভার সিরোসিস বা ক্যান্সারের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

করণীয় ও জনসচেতনতা

গবেষক দল এই রিপোর্টটিকে বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা হিসেবে গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, লিভারের সমস্যার এই ক্রমবর্ধমান হার রোধ করতে হলে অবিলম্বে সচেতনতা বৃদ্ধি, বিশেষ স্বাস্থ্য নীতি প্রণয়ন এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা জরুরি। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো গেলে ভবিষ্যতের বড় স্বাস্থ্য বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব।

একঝলকে

  • ২০২৩ সালে বিশ্বে MASLD আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৩০ কোটি।
  • ২০৫০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা ১৮০ কোটি থেকে ২০০ কোটির কোঠায় পৌঁছাতে পারে।
  • ১৯৯০ সালের তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে ১৪৩ শতাংশ।
  • রোগ বৃদ্ধির প্রধান কারণ স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ ও অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস।
  • উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *