সাবধান! মুখের সাধারণ ঘা থেকেই ছড়িয়ে পড়তে পারে প্রাণঘাতী ক্যান্সার

সাবধান! মুখের সাধারণ ঘা থেকেই ছড়িয়ে পড়তে পারে প্রাণঘাতী ক্যান্সার

বর্তমানে ওরাল ক্যান্সার বা মুখের ক্যান্সার একটি মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। মূলত ঠোঁট, গালের ভিতরের অংশ, জিভ, মাড়ি এবং তালুর কোষ বিভাজনে অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে এই রোগটি বাসা বাঁধে। সাধারণ কোনো দীর্ঘস্থায়ী ঘা বা মাংসপিণ্ডকে অবহেলা করলে এটি দ্রুত জটিল আকার ধারণ করতে পারে, যা পরবর্তীতে প্রাণহানি পর্যন্ত ঘটাতে পারে।

শনাক্তকরণের আধুনিক পদ্ধতি

মুখের ক্যান্সার নির্ণয়ের প্রাথমিক ধাপ হলো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে শারীরিক পরীক্ষা বা ক্লিনিক্যাল এক্সামিনেশন। যদি চিকিৎসকের সন্দেহ হয়, তবে সংশ্লিষ্ট স্থান থেকে টিস্যু নিয়ে বায়োপ্সি করা জরুরি। মূলত বায়োপ্সি রিপোর্টের মাধ্যমেই নিশ্চিত হওয়া যায় যে ওই ক্ষতটি সাধারণ টিউমার নাকি ম্যালিগন্যান্ট ক্যান্সার। এছাড়া রোগটি শরীরের কত গভীরে বা লিম্ফ নোডে ছড়িয়েছে কি না, তা বুঝতে সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করা বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়ায়।

প্রভাব ও সতর্কতা

প্রাথমিক পর্যায়ে ক্যান্সার ধরা পড়লে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে সুস্থ হওয়া সম্ভব। তবে রোগ নির্ণয়ে দেরি হলে তা চোয়ালের হাড় ও গলার পেশি নষ্ট করে দিতে পারে। বিশেষ করে তামাক ও সুপারি সেবন এই রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই মুখের ভেতরে অস্বাভাবিক লালচে ভাব বা দীর্ঘদিন না সারা সাদা দাগ দেখা দিলেই দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এক ঝলকে

  • ঠোঁট, জিভ, মাড়ি ও তালুর যে কোনো স্থানে ওরাল ক্যান্সার হতে পারে।
  • ক্যান্সার নিশ্চিত হওয়ার জন্য বায়োপ্সি এবং সিটি স্ক্যান অত্যন্ত জরুরি।
  • রোগের ব্যাপ্তি বুঝতে এমআরআই ও ক্লিনিক্যাল এক্সামিনেশন করা হয়।
  • দ্রুত শনাক্তকরণ এবং তামাক বর্জনই এই রোগ থেকে বাঁচার প্রধান উপায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *