ভয়াবহ সাইলেন্ট কিলার এই রোগ, সময়মতো চিকিৎসা না করালে পা হারানোর ঝুঁকি

ভয়াবহ সাইলেন্ট কিলার এই রোগ, সময়মতো চিকিৎসা না করালে পা হারানোর ঝুঁকি

বর্তমান সময়ে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ বা পিএডি। রক্তনালী সরু হয়ে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট এই সমস্যাটি শুরুতে সাধারণ মনে হলেও, সময়মতো যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে এটি স্থায়ী পঙ্গুত্বের কারণ হতে পারে। বিশেষ করে রক্ত সঞ্চালন ব্যাহত হওয়ার ফলে পায়ে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যাওয়ায় টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা চূড়ান্ত পর্যায়ে অঙ্গহানি বা পা কেটে বাদ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করে।

ঝুঁকির নেপথ্যে কারণ ও লক্ষণ

এই রোগের প্রধান শিকার হচ্ছেন মূলত ৬৫ বছর ঊর্ধ্ব ব্যক্তি এবং যারা দীর্ঘমেয়াদী ডায়াবেটিসে ভুগছেন। ধমনীতে কোলেস্টেরল জমে রক্ত চলাচলের পথ রুদ্ধ হয়ে যাওয়াই এই সমস্যার মূল কারণ। হাঁটাচলার সময় পায়ে তীব্র খিঁচুনি বা ব্যথা হওয়া, আঙুলের রঙ কালচে হয়ে যাওয়া এবং পায়ের সামান্য ক্ষত শুকাতে দীর্ঘ সময় লাগা এই রোগের প্রাথমিক সতর্কসংকেত। চিকিৎসকদের মতে, এই লক্ষণগুলোকে সাধারণ ক্লান্তি বা বার্ধক্যজনিত সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যাওয়াই বিপদের মূল কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

পা হারানোর ঝুঁকি হ্রাসে দ্রুত চিকিৎসা

লেস্টারের গ্লেনফিল্ড হাসপাতালের একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, পিএডি আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং অস্ত্রোপচার জীবন বদলে দিতে পারে। দ্রুত চিকিৎসার আওতায় এলে পা কেটে বাদ দেওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা সম্ভব। বর্তমানে উন্নত বিশ্বের ভাস্কুলার সার্জারি ইউনিটগুলো দ্রুততম সময়ে রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক করার ওপর জোর দিচ্ছে, যাতে গ্যাংগ্রিনের মতো ভয়াবহ অবস্থা প্রতিরোধ করা যায়।

প্রতিরোধ ও সচেতনতার পথ

জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন এই প্রাণঘাতী ঝুঁকি থেকে মুক্তি দিতে পারে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ধূমপান পুরোপুরি বর্জন করা এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম রক্তনালীকে সচল রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এই রোগ প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান শর্ত। পায়ের যেকোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তনকে গুরুত্ব দিলে এবং দ্রুত বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক পঙ্গুত্ব এড়ানো সম্ভব।

এক ঝলকে

  • পেরিফেরাল আর্টারি ডিজিজ (পিএডি) মূলত পায়ের রক্তনালী সরু হয়ে যাওয়ার একটি জটিল অবস্থা।
  • ডায়াবেটিস রোগী এবং প্রবীণদের মধ্যে এই রোগে অঙ্গহানি বা পা হারানোর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।
  • সঠিক সময়ে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে পঙ্গুত্বের ঝুঁকি অর্ধেকেরও বেশি বা ৫৭ শতাংশ কমানো সম্ভব।
  • ধূমপান বর্জন, নিয়মিত ব্যায়াম এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণই এই রোগ প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *