গরমে সস্তা হলেও পাতে কমছে চিকেন, প্রোটিনের ঘাটতি মিটবে কোন বিকল্পে

তীব্র গরমের দাপটে বাজারে ব্রয়লার মুরগির দামে বড়সড় পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মাসের শুরুতে যে মুরগির মাংস প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, তা বর্তমানে কমে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় নেমে এসেছে। মূলত অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে পোলট্রি খামারে মুরগির বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া এবং মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায় খামারিরা দ্রুত মুরগি বাজারে ছাড়ছেন। অন্যদিকে, গরমের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যেও মাংস ও গুরুপাক খাবার খাওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমেছে। চাহিদা ও জোগানের এই ভারসাম্যের কারণেই মূলত দামের এই নিম্নমুখী গ্রাফ। তবে পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে চিকেনের বিকল্প হিসেবে হালকা ও স্বাস্থ্যকর প্রোটিন খোঁজার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
পুষ্টিবিদের চোখে চিকেনের কার্যকারিতা
পুষ্টিবিদ দেবরূপা ভট্টাচার্যের মতে, শরীরচর্চাকারী, বাড়ন্ত শিশু ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য চিকেন এখনও প্রোটিনের অন্যতম সেরা উৎস। বিশেষ করে প্রতি ১০০ গ্রাম চিকেন ব্রেস্ট থেকে প্রায় ২৭ গ্রাম প্রোটিন এবং প্রয়োজনীয় এসেনসিয়াল অ্যামিনো অ্যাসিড পাওয়া যায়। তবে এই তীব্র গরমে যদি কেউ মুরগির মাংস এড়াতে চান, তবে ভারী পদের বদলে হালকা পাতলা ঝোল খাওয়া যেতে পারে। আর যাঁরা পুরোপুরি বিকল্প খুঁজছেন, তাঁদের জন্য বাজারে রয়েছে একাধিক সহজলভ্য উপাদান।
মাছ ও ডিমের সহজ সমাধান
প্রাণিজ প্রোটিনের খোঁজে থাকা মানুষের জন্য ছোট মাছ একটি চমৎকার বিকল্প হতে পারে। পুষ্টিবিদের মতে, বাটা মাছের মতো ছোট মাছে প্রচুর প্রোটিন থাকে। ১০০ গ্রাম বাটা মাছ থেকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ গ্রাম প্রোটিন মেলার পাশাপাশি ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন ও উপকারী ফ্যাট পাওয়া যায়, যা গরমে শরীরের জন্য বেশ আরামদায়ক।
এর পাশাপাশি ডিমকে সস্তার সেরা প্রোটিন উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। একটি ডিম থেকে প্রায় ৬ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ দৈনিক ২ থেকে ৩টি গোটা ডিম খেতেই পারেন। তবে গরমে অতিরিক্ত ডিম খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে এবং ডিমের কুসুমে ফ্যাট ও ক্যালোরি বেশি থাকায় পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি।
নিরামিষভোজীদের জন্য পুষ্টিকর বিকল্প
যাঁরা নিরামিষ আহার করেন বা গরমে হালকা খাবার পছন্দ করছেন, তাঁদের জন্য বিকল্পের অভাব নেই। দুধ, ছানা, সয়াবিন, টোফু, চিনেবাদাম এবং খোসাসহ মুসুর ডাল প্রোটিনের চমৎকার উৎস। এছাড়া এই গরমে হাং কার্ড বা জল ঝরানো ঘন দই অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা প্রোবায়োটিক গরমে হজমশক্তি ঠিক রাখতে সাহায্য করে। তাই সুস্থ থাকতে এই সময়ে দই-ভাত, দই-ওটস বা দই-ফল নিয়মিত খাওয়া যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল একটি উৎসের ওপর নির্ভর না করে খাদ্যাতালিকায় বৈচিত্র্য আনলে খরচ যেমন কমবে, তেমনই শরীরের পুষ্টির চাহিদাও সঠিকভাবে পূরণ হবে।