বছরের শেষ সূর্যগ্রহণে ঘনাচ্ছে অমঙ্গল, চর্তুগ্রহী যোগে বিপদের মুখে কোন ৪ রাশি?

আগামী ১২ অগাস্ট বছরের দ্বিতীয় তথা শেষ সূর্যগ্রহণ ঘটতে চলেছে। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, এটি একটি বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হতে যাচ্ছে, যা কর্কট রাশিতে এবং অশ্লেষা নক্ষত্রে সংঘটিত হবে। এই সময় কর্কট রাশিতে সূর্য, চন্দ্র, বুধ এবং বৃহস্পতির উপস্থিতির কারণে তৈরি হচ্ছে একটি শক্তিশালী চতুর্গ্রহী যোগ। ভারতীয় সময় অনুযায়ী, এই গ্রহণটি ১৩ অগাস্ট রাত ৯টা বেজে ৪ মিনিটে শুরু হয়ে ভোর ৪টে ২৫ মিনিটে শেষ হবে। যদিও এই গ্রহণটি ভারত থেকে দেখা যাবে না, তবে জ্যোতিষীদের মতে, মহাজাগতিক এই ঘটনার প্রভাব বিশ্বজুড়ে সমস্ত রাশির ওপর কম-বেশি পড়বে। বিশেষ করে ৪টি রাশির জাতক-জাতিকাদের ওপর এর তীব্র অশুভ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা আগামী ছয় মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
ঝুঁকিতে চার রাশি ও সংকটের ক্ষেত্র
এই বিরল সূর্যগ্রহণের কারণে মূলত মেষ, কর্কট, তুলা এবং মকর রাশির জাতক-জাতিকারা নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। মেষ রাশির ক্ষেত্রে সামাজিক পদমর্যাদা, খ্যাতি, স্বাস্থ্য এবং পারিবারিক সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর্থিক ক্ষতি এড়াতে এই রাশির ব্যক্তিদের অতিরিক্ত খরচ নিয়ন্ত্রণ ও নতুন বিনিয়োগে সতর্ক হতে হবে। অন্যদিকে, গ্রহণটি যেহেতু কর্কট রাশিতেই ঘটছে, তাই এই রাশির জাতকদের জন্য সময়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ভুল সঙ্গের কারণে মানহানি, ভুল সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্ভাবনা রয়েছে এই সময়ে।
তুলা রাশির জাতক-জাতিকাদের জন্য এই গ্রহণ কর্মক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ ও বাধা নিয়ে আসতে পারে, যা তাদের আর্থিক ও মানসিক উদ্বেগের কারণ হবে। একইভাবে, মকর রাশির ক্ষেত্রে পারিবারিক সম্পর্ক, পৈতৃক সম্পত্তি এবং ব্যবসায় বড় ধরনের উত্থান-পতন দেখা দিতে পারে। অতিরিক্ত কাজের চাপ ও দায়িত্ব বৃদ্ধির কারণে এরা তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগতে পারেন এবং পুরোনো কোনো দীর্ঘস্থায়ী রোগ নতুন করে ভোগাতে পারে।
প্রভাব প্রশমন ও জ্যোতিষশাস্ত্রীয় প্রতিকার
জ্যোতিষবিদদের মতে, এই গ্রহান্তরের অশুভ প্রভাব ও ক্ষতি থেকে বাঁচতে কিছু নির্দিষ্ট প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। মেষ রাশির জাতকদের গ্রহণ শেষে গম দান করার এবং পরবর্তী তিন মাস নিয়মিত শিবলিঙ্গে দুধ নিবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কর্কট রাশির ব্যক্তিদের গুড় দান করার পাশাপাশি জল ও হলুদ চন্দন দিয়ে ভগবান শিবের অভিষেক করা উচিত।
তুলা রাশির ক্ষেত্রে প্রতিকার হিসেবে সাত প্রকার শস্য দান, নিয়মিত সূর্যদেবকে অর্ঘ্য প্রদান এবং শিবলিঙ্গে কালো তিল মেশানো জল অর্পণ করার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া, মকর রাশির জাতক-জাতিকারা গ্রহণের সময় গুড় ও বস্ত্র দান করলে এবং নিয়মিত বজরংবলীর পুজোসহ শিবলিঙ্গে কালো তিল মিশ্রিত দুধ নিবেদন করলে এই মহাজাগতিক সংকটের নেতিবাচক প্রভাব থেকে অনেকাংশে মুক্ত থাকতে পারবেন।