ভুঁড়ি কমবে কোন উপায়ে? জানুন হাঁটা নাকি দৌড়ানো— ওজন ঝরাতে কোনটা বেশি কার্যকরী

ওজন কমানো এবং পেটের মেদ বা ভুঁড়ি কমানোর লড়াইয়ে হাঁটা নাকি দৌড়ানো— কোনটি বেশি উপকারী, তা নিয়ে প্রায়শই দ্বন্দ্ব তৈরি হয়। সম্প্রতি এ বিষয়ে নানা তথ্য সামনে এসেছে।
দৌড়ানো একটি হাই-ইনটেনসিটি ব্যায়াম হওয়ার কারণে হাঁটার তুলনায় প্রতি মিনিটে এতে অনেক বেশি ক্যালোরি পোড়ে। আর বেশি ক্যালোরি ঝরার অর্থ হলো খুব সহজেই ‘ক্যালোরি ডেফিসিট’ তৈরি করা, যা মেদ ঝরানোর জন্য অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে, হাঁটা শরীরের জয়েন্ট বা গাঁটে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে না এবং এর জন্য কোনো বিশেষ সরঞ্জামেরও প্রয়োজন হয় না।
নিয়মিত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট হাঁটলে ধীরে ধীরে শরীরের অতিরিক্ত মেদ কমে যায়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হালকা গতিতেও হাঁটলে প্রায় ১৫০ ক্যালোরি পর্যন্ত ঝরানো সম্ভব। বিশেষ করে সকালে খালি পেটে হাঁটলে মেটাবলিজম বৃদ্ধি পায় এবং আরও কার্যকরভাবে মেদ ঝরে।
যাঁদের কোনো হৃদ্রোগের সমস্যা নেই এবং শরীর সম্পূর্ণ সুস্থ, তাঁদের জন্য বিকেলবেলা দৌড়ানো হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে অত্যন্ত কার্যকর। দৌড়ানো এক ধরনের অ্যারোবিক ব্যায়াম, যা হৃৎপিণ্ডের পেশিকে শক্তিশালী করে এবং স্ট্রোক ভলিউম বৃদ্ধি করে। হাঁটার তুলনায় দৌড়ানোর তীব্রতা বেশি হওয়ায় এটি হৃদ্পিণ্ড ও ফুসফুসের ক্ষমতা (কার্ডিওভাসকুলার ফিটনেস) দ্রুত উন্নত করে। নিয়মিত দৌড়ালে সহনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সার্বিক মেটাবলিক স্বাস্থ্যও ভালো থাকে।
তবে যাঁদের হাঁটুতে ব্যথা বা জয়েন্টের দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা রয়েছে, কিংবা যাঁরা কোনো চোট সারিয়ে উঠছেন অথবা সবেমাত্র শরীরচর্চা শুরু করেছেন, তাঁদের জন্য হাঁটাই সবচেয়ে নিরাপদ ও উপযোগী উপায়। এটি জয়েন্টে অতিরিক্ত চাপ না ফেলেই স্বাস্থ্যের নানা উপকার করে।
সংক্ষেপে বলতে গেলে, আপনার মূল লক্ষ্য যদি কম সময়ে দ্রুত ক্যালোরি ঝরানো হয়, তবে দৌড়ানো বেছে নেওয়া উচিত। আর যদি এমন কোনো ব্যায়ামের সন্ধান করেন যা শরীরে বেশি চাপ তৈরি না করে প্রায় প্রতিদিনই সহজে করা সম্ভব, তবে হাঁটাই আপনার জন্য সেরা বিকল্প।