এই মন্দিরে ট্রেনের হর্ন বাজানো বাধ্যতামূলক! জানুন ব্রিটিশ আমল থেকে চলে আসা সেই অলৌকিক রহস্য

উত্তরাখণ্ডের হরিদ্বারে অবস্থিত একটি প্রাচীন কালী মন্দিরকে কেন্দ্র করে এক বিস্ময়কর লোকগাথা দীর্ঘকাল ধরে প্রচলিত রয়েছে। লোকবিশ্বাস অনুযায়ী, এই মন্দিরটি মহাভারত আমলের থেকেও প্রাচীন এবং এটি একটি পাহাড়ের গুহার মধ্যে অবস্থিত। তবে এই মন্দিরের সবচেয়ে অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হলো এর নিচ দিয়ে চলে যাওয়া রেললাইন। হরিদ্বার ও দেরাদুনকে সংযোগকারী এই লাইনে যখনই কোনো ট্রেন এই মন্দিরের নিচ দিয়ে অতিক্রান্ত হয়, তখনই চালক ট্রেনের হর্ন বাজিয়ে দেবী কালীকে শ্রদ্ধা জানান। স্থানীয়দের কাছে এটি কোনো সাধারণ হর্ন নয়, বরং দেবীর প্রতি এক বিশেষ ‘সালামি’।
সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে জনৈক ট্রাভেল কন্টেন্ট ক্রিয়েটরের শেয়ার করা একটি ভিডিওর মাধ্যমে এই অলৌকিক ইতিহাসটি পুনরায় আলোচনায় এসেছে। প্রচলিত আছে যে, ব্রিটিশ শাসনামলে যখন এখানে রেললাইন তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল, তখন ইঞ্জিনিয়াররা মন্দিরের একটি সংযোগকারী সেতু ভেঙে দিয়েছিলেন। এরপরই অদ্ভুতভাবে রেলের সমস্ত কাজ থমকে যায়। লোকমুখে শোনা যায়, স্বয়ং দেবী কালী ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ারকে স্বপ্নে দেখা দিয়ে সতর্ক করেন যে, যতক্ষণ না মন্দিরের রাস্তা ও সেতু মেরামত করা হচ্ছে, ততক্ষণ কাজ এগোবে না।
দেবীর মহিমা ও নির্দেশের কাছে নতিস্বীকার করে ব্রিটিশরা দ্রুত সেতুটি পুনর্নির্মাণ করেন এবং তারপরই কোনো বাধা ছাড়াই রেলের কাজ সম্পন্ন হয়। সেই সময় থেকেই এই পথে যাতায়াতকারী প্রতিটি ট্রেন মন্দিরের নিচে পৌঁছে দেবীকে হর্ন বাজিয়ে সম্মান প্রদর্শন করে। বর্তমানে এই ভিডিওটি ইন্টারনেটে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে, যেখানে হাজারে হাজার মানুষ দেবীর এই জাগ্রত রূপকে প্রণাম জানিয়েছেন। অনেক ভক্তেরই দাবি, এই মন্দিরে ভক্তিভরে কিছু প্রার্থনা করলে দেবী তা পূরণ করেন। আধুনিক যুগেও এই প্রথা বিজ্ঞান ও বিশ্বাসের এক অদ্ভুত সেতুবন্ধন হয়ে টিকে আছে।