হিন্দুধর্মে প্রচলিত বিবাহের আটটি ধরণ সম্পর্কে জানলে আপনিও অবাক হবেন

সনাতন হিন্দু ধর্মে বিবাহ কেবল দুই ব্যক্তির মিলন নয় বরং এটি একটি পবিত্র আধ্যাত্মিক বন্ধন হিসেবে বিবেচিত। প্রাচীন শাস্ত্র ও পুরাণ অনুযায়ী হিন্দু ধর্মে আট ধরনের বিবাহের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিবাহগুলোর ধরণ সামাজিক পরিস্থিতি, নৈতিকতা এবং ধর্মীয় রীতির ওপর ভিত্তি করে ভিন্ন ভিন্ন শ্রেণিতে বিভক্ত। বর্তমান যুগে লাভ বা অ্যারেঞ্জ ম্যারেজ সর্বাধিক প্রচলিত হলেও প্রাচীন শাস্ত্রে বিবাহের এই বৈচিত্র্যময় রূপগুলো তৎকালীন সমাজ ব্যবস্থার এক অনন্য প্রতিফলন।
শাস্ত্রমতে প্রথম চারটি বিবাহ যথাক্রমে ব্রহ্ম, দৈব, আর্য এবং প্রাজাপত্য বিবাহকে অত্যন্ত শুভ ও আদর্শ বলে গণ্য করা হয়। এর মধ্যে ব্রহ্ম বিবাহ সবচেয়ে উচ্চমানের যেখানে কোনো যৌতুক ছাড়া যোগ্য পাত্রের হাতে কন্যাদান করা হয়। অন্যদিকে দৈব বিবাহে যজ্ঞ সম্পাদনকারী পুরোহিতের সঙ্গে এবং আর্য বিবাহে নির্দিষ্ট উপচারের বিনিময়ে বিয়ে সম্পন্ন হতো। প্রাজাপত্য বিবাহে কোনো লেনদেন ছাড়াই সামাজিক ও ধর্মীয় স্বীকৃতির মাধ্যমে দাম্পত্য জীবন শুরু হতো।
বাকি চারটি বিবাহের মধ্যে গন্ধর্ব বিবাহ বর্তমানের প্রেম বিবাহের আদি রূপ। তবে অসুর, রাক্ষস এবং পিশাচ বিবাহকে সমাজে অনৈতিক ও শাস্ত্রবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে পিশাচ বিবাহ যেখানে কোনো ছলনা বা বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি করা হয়, তাকে নিকৃষ্টতম হিসেবে গণ্য করা হয়। এই আটটি পদ্ধতির বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে প্রাচীন সমাজ ব্যবস্থায় সম্মতি, নৈতিকতা এবং আধ্যাত্মিকতাকে বিবাহের ক্ষেত্রে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হতো।