গলায় জ্যান্ত মাছ আটকে নীল হয়ে গিয়েছিল এক বছরের শিশু, চিকিৎসকদের অবিশ্বাস্য সাফল্যে ফিরল প্রাণ

গলায় জ্যান্ত মাছ আটকে নীল হয়ে গিয়েছিল এক বছরের শিশু, চিকিৎসকদের অবিশ্বাস্য সাফল্যে ফিরল প্রাণ

মধ্যপ্রদেশের ইন্দোর থেকে এক চাঞ্চল্যকর ও বিরল চিকিৎসা সাফল্যের খবর সামনে এসেছে। শহরের মহারাজা যশবন্তরাও হাসপাতালে (MYH) চিকিৎসকরা এক বছর বয়সী এক শিশুর গলা থেকে তিন ইঞ্চি লম্বা একটি জ্যান্ত মাছ বের করে অসাধ্য সাধন করেছেন। চিকিৎসকদের এই দক্ষতা ও তৎপরতায় নিশ্চিত মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছে শিশুটি।

যেভাবে ঘটল এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা

ঘটনার দিন শিশুটির পরিবার বাড়ির অ্যাকোয়ারিয়াম পরিষ্কার করছিল। সেই সময় পরিবারের এক সদস্য একটি মাছ হাতে ধরে ছিলেন। কাছেই খেলা করছিল এক বছর বয়সী ওই শিশুটি। অবহেলাবশত বা নিছক কৌতূহলবশত শিশুটি সেই জ্যান্ত মাছটি মুখে পুরে দেয়। মুহূর্তের মধ্যে মাছটি তার গলার পেছনের অংশে (ল্যারিন্স) গিয়ে আটকে যায়।

মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা ও চিকিৎসকদের তৎপরতা

শিশুটিকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখন তার অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। গলার ভেতর মাছটি জ্যান্ত থাকায় সেটি অনবরত নড়াচড়া করছিল। এতে শিশুটির শ্বাসপ্রশ্বাস প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল এবং সে কান্নার শক্তিও হারিয়ে ফেলেছিল। অক্সিজেনের অভাবে শরীর নীল হতে শুরু করে এবং মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ইএনটি (ENT) বিভাগের প্রধান ডঃ ইয়ামিনী গুপ্তার নেতৃত্বে দ্রুত একটি বিশেষজ্ঞ দল গঠন করা হয়। শুরু হয় এক অত্যন্ত জটিল অস্ত্রোপচার।

চ্যালেঞ্জিং সার্জারি ও নতুন জীবন

এই অস্ত্রোপচারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল মাছটির আকার এবং সেটির জীবিত থাকা। তিন ইঞ্চি লম্বা ওই ‘গোরামি’ মাছটি গলার ভেতরে ছটফট করছিল। মাছের পাখা এবং ফুলকার অনবরত নড়াচড়ায় শিশুটির শ্বাসনালি বা খাদ্যনালি ছিঁড়ে যাওয়ার প্রবল ঝুঁকি ছিল। চিকিৎসকরা অত্যন্ত ধৈর্য ও দক্ষতার সঙ্গে এন্ডোস্কপির মাধ্যমে মাছটিকে অক্ষত অবস্থায় বের করে আনতে সক্ষম হন। মাছটি বের করার পরপরই শিশুটির শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক হয়।

মধ্য ভারতের বিরল ঘটনা ও বিশেষজ্ঞের পরামর্শ

ডঃ ইয়ামিনী গুপ্তা এই ঘটনাকে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং এবং মধ্য ভারতের প্রথম বিরল ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, এত ছোট শিশুর গলায় জ্যান্ত মাছ আটকে যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। এই সফল অস্ত্রোপচার এমওয়াইএইচ হাসপাতালের চিকিৎসা উৎকর্ষতাকে আবারও প্রমাণ করল।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চিকিৎসকরা অভিভাবকদের বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। ছোট শিশুদের শ্বাসনালি অত্যন্ত সংকীর্ণ হয়, তাই তাদের আশেপাশে অ্যাকোয়ারিয়াম বা ছোট কোনো বিপজ্জনক বস্তু রাখার ক্ষেত্রে বাড়তি সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি।

এক ঝলকে

  • ঘটনা: এক বছরের শিশুর গলায় ৩ ইঞ্চি লম্বা জ্যান্ত মাছ আটকে যাওয়া।
  • স্থান: মহারাজা যশবন্তরাও হাসপাতাল (MYH), ইন্দোর।
  • মাছের ধরন: গোরামি মাছ।
  • জটিলতা: শ্বাসরোধ, শরীর নীল হয়ে যাওয়া এবং রক্তক্ষরণ।
  • চিকিৎসা: এন্ডোস্কপি প্রক্রিয়ায় সফল অস্ত্রোপচার।
  • বর্তমান অবস্থা: শিশুটি সুস্থ এবং বর্তমানে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *