ঘোড়ায় চড়ে কনে এলো বর নিতে! ‘কন্যাদান’ নয়, ‘বরদানে’ ইতিহাস গড়ল এই গ্রাম

ঘোড়ায় চড়ে কনে এলো বর নিতে! ‘কন্যাদান’ নয়, ‘বরদানে’ ইতিহাস গড়ল এই গ্রাম

ঘোড়ায় চড়ে কনের আগমন আর বিদায়বেলায় বরের চোখে জল! ছত্তিশগড়ের সুলপাগা গ্রামে প্রচলিত রীতির উল্টো স্রোতে এক অনন্য বিবাহের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। সাধারণত বিয়েতে বরকে ঘোড়ায় চড়ে আসতে দেখা গেলেও, এখানে কনে দেমুনি এক্কা ব্যান্ড-বাজা নিয়ে বরের বাড়িতে হাজির হন। বিয়ের আচার শেষে প্রথা ভেঙে কনে নয়, বরং বর বিলাসস বরুয়াকে কাঁদতে কাঁদতে নিজের বাড়ি ছেড়ে পাড়ি দিতে হয় শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশ্যে।

কন্যাদান নয় বরং বরদান

এই বিয়ের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী অধ্যায় ছিল ‘বরদান’ নামক একটি আচার। সাধারণ হিন্দু বিবাহে কন্যাদান করা হলেও, এখানে বরের পরিবার তাদের সন্তানকে কনের পরিবারের হাতে তুলে দেন। বরের শ্বশুরবাড়িতে স্থায়ীভাবে থাকার এই সিদ্ধান্ত মূলত কনের বাবা মোহন এক্কার ইচ্ছায় নেওয়া হয়েছে। তাঁর কোনো পুত্রসন্তান না থাকায় বার্ধক্যে নিজেদের দেখাশোনা এবং কৃষিকাজ সামলানোর জন্য তিনি অকাল্ট এক ব্যবস্থা খুঁজছিলেন, যা এই বিয়ের মাধ্যমে পূর্ণতা পেয়েছে।

সামাজিক প্রথায় নতুন দিগন্ত

যৌতুকহীন এই বিয়েতে কনে পক্ষই বরযাত্রী নিয়ে বরের দুয়ারে উপস্থিত হয়, যা গ্রামবাসীর কাছে ছিল বিস্ময়কর। কনের বাবা মোহন এক্কার মতে, তিনি জামাই নয় বরং একজন ছেলে চেয়েছেন যে তাঁর পরিবারের দায়িত্ব নেবে। এই ঘটনাটি সমাজে এক শক্তিশালী বার্তা পৌঁছে দিয়েছে যে, শুধু ছেলেরাই নয়, মেয়েরাও বিয়ের পর মা-বাবার অবলম্বন হয়ে থাকতে পারে যদি সমাজ মানসিকতা পরিবর্তন করে। লিঙ্গ বৈষম্য দূর করতে এবং কন্যাসন্তানদের গুরুত্ব বোঝাতে এই ‘ঘরজামাই’ প্রথার ইতিবাচক প্রয়োগ এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

এক ঝলকে

  • ছত্তিশগড়ের সুলপাগা গ্রামে প্রথা ভেঙে ঘোড়ায় চড়ে বরের বাড়িতে বিয়ে করতে যান কনে।
  • কন্যাদানের পরিবর্তে এখানে ‘বরদান’ অনুষ্ঠিত হয় এবং বিয়ের পর বর স্থায়ীভাবে কনের বাড়িতে থাকতে শুরু করেন।
  • ছেলের অভাব মেটাতে এবং বৃদ্ধ বয়সে সহায় হওয়ার লক্ষ্যে কনের কৃষক পিতা এই বিশেষ উদ্যোগ নেন।
  • যৌতুকবিহীন এই বিয়েতে প্রথাগত লিঙ্গীয় ভূমিকা পরিবর্তনের মাধ্যমে এক অনন্য সামাজিক বার্তা দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *