আশি বছরেও অটুট পাথরের নেশা, পাথর বাবার কীর্তিতে চিকিৎসকরাও অবাক!

মহারাষ্ট্রের সাতারার বাসিন্দা ৮০ বছর বয়সী রামভাউ বোডকে বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। স্থানীয়ভাবে ‘পাথর ওয়ালে বাবা’ নামে পরিচিত এই বৃদ্ধ গত ৩১ বছর ধরে প্রতিদিন নিয়ম করে প্রায় ২৫০ গ্রাম পাথরের টুকরো চিবিয়ে খান। তাঁর দাবি, ১৯৮৯ সালে পেটের অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতেই এক বৃদ্ধার পরামর্শে তিনি পাথর খাওয়া শুরু করেন। দীর্ঘ তিন দশক ধরে এই অদ্ভুত অভ্যাস বজায় রাখলেও সাম্প্রতিক এক অসুস্থতায় তাঁর শরীরের অভ্যন্তরীণ অবস্থা দেখে তাজ্জব বনে গেছেন চিকিৎসকরা।
চিকিৎসকদের বিস্ময় ও স্বাস্থ্যঝুঁকি
সম্প্রতি পুনরায় পেটে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে রামভাউয়ের সিটি স্ক্যান করা হয়। পরীক্ষায় তাঁর পাকস্থলীতে বিপুল পরিমাণ পাথরের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে প্রতিদিন পাথর হজম করা তো দূরের কথা, দীর্ঘদিন বেঁচে থাকাটাই অলৌকিক ঘটনা। তাঁরা এই অভ্যাসকে অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক বলে সতর্ক করেছেন। তবে রামভাউয়ের দাবি, এই পাথর খাওয়ার ফলেই তিনি তিন দশক ধরে পেটের পুরনো ব্যথার হাত থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
অস্বাভাবিক অভ্যাসের উৎস ও প্রভাব
মুম্বাইয়ে কাজের সন্ধানে গিয়ে পেটের ব্যথায় আক্রান্ত হওয়া এবং দীর্ঘ চিকিৎসার ব্যর্থতা থেকেই মূলত তাঁর এই অভ্যাসের সূত্রপাত। যদিও চিকিৎসা বিজ্ঞান পাথর খাওয়াকে কোনো সমাধান হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না, বরং একে ‘পিকা’ নামক এক প্রকার মানসিক বা শারীরিক বিকৃতির লক্ষণ হিসেবে দেখে। চিকিৎসকরা তাঁকে কঠোরভাবে পাথর খেতে নিষেধ করেছেন, কারণ এটি পাকস্থলী ফুটো করে দেওয়া বা মারাত্মক সংক্রমণের কারণ হতে পারে। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও এই খাদ্যাভ্যাস তাঁর দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এক ঝলকে
- মহারাষ্ট্রের সাতারা জেলার রামভাউ বোডকে প্রতিদিন ২৫০ গ্রাম পাথর খান।
- বিগত ৩১ বছর ধরে তিনি এই অভ্যাস চালিয়ে আসছেন বলে জানা গেছে।
- পেটের ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে জনৈক মহিলার পরামর্শে তিনি এই কাজ শুরু করেন।
- সিটি স্ক্যান রিপোর্টে পাকস্থলীতে পাথর দেখে চিকিৎসকরা বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।