বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে গিয়েই সাসপেনশন! কলকাতা পুরসভার অন্দরে তুঙ্গে বিতর্ক।

বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে গিয়ে সাসপেনশন: পুরসভার অন্দরে ক্ষোভ ও অস্বস্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক, কলকাতা: শহরের বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে পুরসভার এক এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের সাসপেন্ড হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পুর প্রশাসনিক মহলে। বেআইনি নির্মাণ ভাঙার পর শীর্ষ কর্তৃপক্ষের তোপের মুখে পড়া ওই ইঞ্জিনিয়ারকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হওয়ায় আতঙ্কিত অন্যান্য আধিকারিকরাও। এই পরিস্থিতির জেরে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে অভিযানে কার্যত স্থবিরতা নেমে এসেছে বলে অভিযোগ।
ঘটনার সূত্রপাত বেলেঘাটা এলাকার একটি বেআইনি নির্মাণ ভাঙার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। সূত্রের খবর, সংশ্লিষ্ট ওই এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার ‘স্পেশাল অফিসার বিল্ডিং’-এর নির্দেশে বৈধ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই ওই নির্মাণটি ভাঙতে যান। অভিযোগ, এতে পুরসভার শীর্ষমহলের একাংশ ক্ষুব্ধ হয়। কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে কেন ওই নির্মাণ ভাঙা হলো—এই মর্মে সংশ্লিষ্ট অফিসারকে প্রথমে শো-কজ করা হয়। এরপর ক্ষমা চেয়ে উত্তর দিলেও তাকে সাসপেন্ড করা হয়। দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও সেই সাসপেনশন প্রত্যাহার না হওয়ায় দপ্তরের কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
এই পরিস্থিতি নিয়ে পুরসভার নথিবদ্ধ আর্কিটেক্ট ও স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার অংশুমান সরকার সরব হয়েছেন। পুর কমিশনারকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচারের অভিযোগে পুরসভা তাঁকে শো-কজ করেছে। এর জবাবে অংশুমানবাবু জানান, “বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা বরো এগজিকিউটিভদের আইনিভাবেই দেওয়া হয়েছে। এজন্য কমিশনারের অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। অথচ কমিশনার অবৈধ নির্মাণের ফাইলেও সই করছেন না।” তাঁর দাবি, সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজস্ব মতামত প্রকাশের কারণে পুর কর্তৃপক্ষ তাঁকে নিশানা করছে।
সূত্রের খবর, এই ঘটনার পর থেকে পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের ইঞ্জিনিয়াররা চরম ধোঁয়াশা ও আতঙ্কে ভুগছেন। বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করলে আবারও শাস্তির মুখে পড়তে হবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান তাঁরা। যার প্রভাব পড়ছে নতুন নির্মাণ অনুমোদনের ক্ষেত্রেও। অভিযোগ, বর্তমানে নতুন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ার গতিও আগের চেয়ে অনেকটাই শ্লথ হয়ে পড়েছে।
পুরসভার শীর্ষমহলের এই কঠোর মনোভাব ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনের জেরে শহরের বেআইনি নির্মাণবিরোধী অভিযান প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এ বিষয়ে পুর কর্তৃপক্ষের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনো সদর্থক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।