৯ মাসের অপেক্ষা শেষ! এখন ৬ মাসেই হামের টিকা, কেন এই জরুরি সিদ্ধান্ত নিলো সরকার?

নিউজ ডেস্ক ।। দেশে আশঙ্কাজনক হারে হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় টিকাদান কর্মসূচিতে বড় পরিবর্তন এনেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এখন থেকে শিশুদের ৯ মাসের পরিবর্তে ৬ মাস বয়স হলেই হামের প্রথম ডোজ টিকা দেওয়া হবে। সোমবার ন্যাশনাল ইমিউনাইজেশন টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজরি কমিটির বৈঠকে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন এই আগাম সতর্কতা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে দেশে হামের ‘আউটব্রেক’ বা প্রাদুর্ভাব চলছে। এই পরিস্থিতিতে ১৫ মাসের কম বয়সী এবং অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে যারা এক্সক্লুসিভ ব্রেস্টফিডিং পায় না, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হওয়ায় দ্রুত সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই বাড়তি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জুনের প্রথম সপ্তাহ থেকে মাসব্যাপী বিশেষ ক্যাম্পেইন শুরু হচ্ছে, যার লক্ষ্য প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকার আওতায় আনা।
টিকা দিলেও কি হাম হতে পারে?
চিকিৎসকদের মতে, হামের টিকা প্রায় ৯০-৯৫ শতাংশ কার্যকর। তবে ভিটামিন-এ এর অভাব বা দীর্ঘস্থায়ী অপুষ্টি থাকলে টিকা দেওয়ার পরও মৃদু সংক্রমণ হতে পারে। তবে টিকা নেওয়া থাকলে নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া বা মস্তিষ্কের সংক্রমণের মতো জটিল ঝুঁকিগুলো অনেকটাই কমে যায়।
লক্ষণ চিনবেন কীভাবে?
শরীরে র্যাশ বা লালচে দানা ওঠার অন্তত ৩-৫ দিন আগে থেকেই হামের সংক্রমণ শুরু হয়। জ্বর, শুকনো কাশি, সর্দি এবং চোখ লাল হয়ে জল পড়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলেই শিশুকে দ্রুত অন্যদের থেকে আলাদা করতে হবে। এটি মূলত হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসের সাহায্যে দ্রুত ছড়ায়, যেখানে একজন আক্রান্ত শিশু ১২ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে।
করণীয় কী?
বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ সর্দি-কাশি হলেও অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শিশুদের হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার শেখানো এবং বারবার হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। আপনার শিশুর বয়স ৬ মাস পূর্ণ হলেই নিকটস্থ কেন্দ্রে যোগাযোগ করে টিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করুন।