মাছ-যুদ্ধে মুখোমুখি মোদী-মমতা! ‘ফিসফাস’ ঝেড়ে কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, পাল্টা জবাব তৃণমূল নেত্রীর

মাছ-যুদ্ধে মুখোমুখি মোদী-মমতা! ‘ফিসফাস’ ঝেড়ে কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রীর, পাল্টা জবাব তৃণমূল নেত্রীর

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের আবহে এবার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে বাঙালির চিরকালীন আবেগ ‘মাছ-ভাত’। বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেবে— তৃণমূলের এই লাগাতার প্রচারের পাল্টা জবাব দিতে এবার সরাসরি ময়দানে নামলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ার জনসভা থেকে তিনি যেমন মৎস্যচাষের অনুন্নয়ন নিয়ে রাজ্যকে বিঁধলেন, তেমনই কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁ থেকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মাছ নিয়ে কেন এই রাজনৈতিক সংঘাত

তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব গত কয়েকদিন ধরেই প্রচার চালাচ্ছেন যে, বিজেপি বাঙালির সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাস বোঝে না। উত্তর ভারত বা দিল্লির কিছু ঘটনার উদাহরণ টেনে শাসকদলের দাবি, বিজেপি এলে বাংলায় আমিষ খাবারের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। এই ‘বাঙালি বিরোধী’ তকমা ঝেড়ে ফেলতে মরিয়া বিজেপি নেতারাও এখন প্রচারে বেরিয়ে মাছ হাতে ছবি তুলছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাঙালির সংবেদনশীল জায়গায় আঘাত করতেই তৃণমূল এই কৌশল নিয়েছে, যা খণ্ডন করা বিজেপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হলদিয়ায় মোদীর আক্রমণ ও উন্নয়নের খতিয়ান

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এদিন হলদিয়ার সভা থেকে স্পষ্ট করে দেন যে, মাছ নিয়ে কোনো লুকোছাপার প্রয়োজন নেই। উল্টে তিনি বাংলার মৎস্যচাষের করুণ দশা তুলে ধরেন:

  • উৎপাদনে ঘাটতি: মোদীর অভিযোগ, বিশাল উপকূলরেখা থাকা সত্ত্বেও মৎস্য উৎপাদনে বাংলা পিছিয়ে পড়ছে। এমনকি ভিন রাজ্য থেকে মাছ আমদানি করতে হচ্ছে।
  • অন্য রাজ্যের তুলনা: তিনি দাবি করেন, বিজেপিশাসিত রাজ্য যেমন বিহারে মাছের উৎপাদন দ্বিগুণ হয়েছে।
  • কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাধা: প্রধানমন্ত্রীর দাবি, রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার কারণে বাংলার মৎস্যজীবীরা ‘পিএম মৎস্য সম্পদ যোজনা’-র সুবিধা পাচ্ছেন না।

মমতার পাল্টা জবাব ও স্বনির্ভরতার দাবি

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের কিছুক্ষণের মধ্যেই মিনাখাঁর সভা থেকে গর্জে ওঠেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়ে জানান:

  • স্বাবলম্বী বাংলা: মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, মাছ উৎপাদনে বাংলা এখন পুরোপুরি স্বনির্ভর। এখন আর অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে মাছ আনতে হয় না।
  • ইলিশ গবেষণা: বাংলায় এখন ইলিশ মাছেরও চাষ ও গবেষণা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
  • সংস্কৃতি রক্ষা: বিজেপি নেতাদের হঠাৎ ‘মৎস্যপ্রেম’ আসলে ভোটের নাটক বলে কটাক্ষ করেন তিনি।

ভোটব্যাঙ্কে মৎস্যজীবীদের গুরুত্ব

পূর্ব মেদিনীপুর জেলাটি মাছ চাষ এবং সামুদ্রিক মৎস্য আহরণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েকটি নির্বাচনে এই উপকূলীয় অঞ্চলে বিজেপির ফল ভালো হয়েছে। তাই এই জেলাকে বেছে নিয়ে মোদী মৎস্যজীবীদের আর্থিক উন্নয়নের কার্ড খেললেন বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, তৃণমূল এই ইস্যুটিকে ‘বাঙালি বনাম বহিরাগত’ লড়াইয়ে রূপ দিয়ে হিন্দুস্তানি সংস্কৃতির বনাম বাংলার সংস্কৃতির সংঘাত হিসেবে তুলে ধরছে।

একঝলকে

  • প্রধান ইস্যু: বিজেপি ক্ষমতায় এলে আমিষ খাবার বন্ধ হবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক।
  • মোদীর দাবি: তৃণমূলের ভুল নীতির কারণে মাছ উৎপাদনে পিছিয়ে পড়ছে পশ্চিমবঙ্গ।
  • মমতার দাবি: বাংলা মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ, বিজেপির অভিযোগ ভিত্তিহীন।
  • লক্ষ্য: উপকূলীয় মৎস্যজীবী ভোটব্যাঙ্ক দখল এবং বাঙালি আবেগকে নিজেদের পক্ষে টানা।
  • স্থান: পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া ও উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁ থেকে দুই নেতার বাগযুদ্ধ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *