২০২৬-এর আগে প্রিয়াঙ্কার মাস্টারস্ট্রোক! নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাত?

২০২৬-এর আগে প্রিয়াঙ্কার মাস্টারস্ট্রোক! নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক সংঘাত?

মহিলা সংরক্ষণ বিল ও ওবিসি কোটা: প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নিশানায় কেন্দ্র

২০২৬ সালের সীমানা পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বা মহিলা সংরক্ষণ বিলের রূপরেখা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র। তাঁর অভিযোগ, বর্তমান বিলের কাঠামোয় অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি বা ওবিসি (OBC) সম্প্রদায়ের নারীদের কোনো সুনির্দিষ্ট কোটার ব্যবস্থা না থাকায় তাঁদের সাথে ঘোরতর ‘অবিচার’ করা হয়েছে। ওবিসি প্রতিনিধিত্বহীন এই বিল ভারতের গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন।

ওবিসি বঞ্চনা ও রাজনীতির নতুন মেরুকরণ

প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর মতে, দেশের জনতাত্ত্বিক কাঠামোয় ওবিসি সম্প্রদায়ের বিশাল অংশ থাকলেও তাঁদের জন্য আলাদা ‘কোটা উইদিন কোটা’ না থাকাটা অধিকার হরণের সামিল। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অবিলম্বে জাতিগত জনগণনা সম্পন্ন করে সংরক্ষিত আসনের সুরাহা করার দাবি তোলা হয়েছে। অন্যদিকে, সরকার এই বিলকে ঐতিহাসিক ও সাংবিধানিক বলে দাবি করে বিরোধীদের অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ডিলিমিটেশন ও নির্বাচনের আগে প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর এই ‘ওবিসি কার্ড’ জাতীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে পারে।

বিল কার্যকরে বিলম্ব ও স্বচ্ছতার প্রশ্ন

মহিলা সংরক্ষণ বিল সংসদে পাস হওয়ার পরেও জনগণনা ও ডিলিমিটেশনের অজুহাতে তা কার্যকর করতে বিলম্ব হওয়ার বিষয়টি নিয়েও সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে কেন নারীরা এই অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবেন, তা নিয়ে প্রিয়াঙ্কা সরকারের স্বচ্ছতা দাবি করেছেন। ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের পরিবর্তে রাজনৈতিক স্বার্থপ্রণোদিত সিদ্ধান্তের কারণেই এই বিল নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় থাকছে বলে বিরোধীদের মত।

এক ঝলকে

  • মহিলা সংরক্ষণ বিলে ওবিসি নারীদের জন্য আলাদা কোটার দাবি তুলেছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র।
  • কংগ্রেসের দাবি, জাতিগত জনগণনার ভিত্তিতেই এই বিল কার্যকর করতে হবে।
  • বিল বাস্তবায়নে দেরি কেন, তা নিয়ে সরকারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেস।
  • বিশ্লেষকদের মতে, ওবিসি কোটা ইস্যু ২০২৯ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বড় রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হতে যাচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *