কাজ করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন ক্লার্ক, চোখ খুলতেই দেখলেন ব্যাংক থেকে গায়েব ২২২,২২২,২২২ ইউরো!

কাজ করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন ক্লার্ক, চোখ খুলতেই দেখলেন ব্যাংক থেকে গায়েব ২২২,২২২,২২২ ইউরো!

জার্মানির একটি ব্যাংকে এক অভাবনীয় বিপত্তি ঘটেছে। কর্মক্ষেত্রে ক্লান্ত একজন ব্যাংক ক্লর্ক কাজ করতে করতে কি-বোর্ডের ওপর ঘুমিয়ে পড়ায় দুর্ঘটনাবশত ২২২,২২২,২২২.২২ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২,৮০০ কোটি টাকার বেশি) অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়ে যায়। মূলত ৬৪.২০ ইউরোর একটি সাধারণ লেনদেন করার সময় ওই কর্মী ঘুমিয়ে পড়লে তার আঙুল কি-বোর্ডের ‘২’ সংখ্যার ওপর চেপে থাকে, যার ফলে এই বিশাল অঙ্কের লেনদেনটি সম্পন্ন হয়।

তদারকি ও অব্যবস্থাপনার মাশুল

ঘটনাটি তখনই জানাজানি হয় যখন ব্যাংকের অন্য একজন কর্মী নিয়মিত পরীক্ষার সময় এই অস্বাভাবিক লেনদেনটি শনাক্ত করেন। তবে এই ব্লান্ডারের দায়ে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট ক্লর্ক নয়, বরং তার সুপারভাইজারও বিপাকে পড়েন। দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ততা সত্ত্বেও এই বিশাল অঙ্কের লেনদেন যাচাই না করে অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগে ওই সুপারভাইজারকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরিচ্যুত করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের দাবি ছিল, এটি গুরুতর অবহেলা যা ব্যাংকের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি করতে পারত।

আদালতের রায় ও সিস্টেমের দুর্বলতা

বরখাস্তের এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে আদালতে যান ওই সুপারভাইজার। জার্মানির লেবার কোর্ট এই বরখাস্তকে অবৈধ ঘোষণা করে তাকে পুনরায় চাকরিতে বহালের নির্দেশ দিয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, ঘটনার দিন ওই সুপারভাইজারকে ৮১২টি নথি পরীক্ষা করতে হয়েছিল এবং প্রতিটি নথির জন্য তিনি মাত্র কয়েক সেকেন্ড সময় পেয়েছিলেন। কাজের এই প্রচণ্ড চাপের কারণেই এমন অনিচ্ছাকৃত ভুল হতে পারে বলে আদালত মনে করে।

এই ঘটনা ব্যাংকিং ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও তদারকি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকে স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বড় অঙ্কের লেনদেনের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় ‘ফ্ল্যাগিং সিস্টেম’ বা একাধিক স্তরের যাচাই প্রক্রিয়া থাকলে এমন মানবিক ভুল এড়ানো সম্ভব হতো। আদালত ভবিষ্যতে এ ধরনের জটিলতা এড়াতে ব্যাংকটিকে উন্নত অটোমেটেড সিস্টেম ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।

এক ঝলকে

  • ব্যাংক ক্লর্ক কি-বোর্ডের ওপর ঘুমিয়ে পড়ায় ভুল করে ২ হাজার কোটি টাকা স্থানান্তর করেন।
  • ৬৪ ইউরোর লেনদেন হওয়ার কথা থাকলেও কি-বোর্ড চেপে ধরায় অংকটি বিশাল আকার ধারণ করে।
  • তদারকিতে গাফিলতির অভিযোগে সুপারভাইজারকে চাকরিচ্যুত করা হলেও আদালত তাকে নির্দোষ বলে রায় দেয়।
  • কাজের অতিরিক্ত চাপ এবং যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *