কারাগারেও বজায় থাকুক মানবিকতা, শারীরিক প্রতিবন্ধী কয়েদিদের অধিকার রক্ষায় সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা

কারাগারেও বজায় থাকুক মানবিকতা, শারীরিক প্রতিবন্ধী কয়েদিদের অধিকার রক্ষায় সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা

কারাগারের চার দেওয়ালের ভেতরে থাকা শারীরিক প্রতিবন্ধী কয়েদিদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে ঐতিহাসিক পর্যবেক্ষণ দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বিক্রম নাথ ও বিচারপতি সন্দীপ মেহতার ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, কারাবাস যেন কোনোভাবেই সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ (আইনের চোখে সমানাধিকার) এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ (ব্যক্তিগত জীবন ও স্বাধীনতার সুরক্ষা) ক্ষুণ্ণ না করে। আদালতের মতে, কয়েদিদের অধিকার রক্ষায় মানবিক ও অধিকার-ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

সংস্কারে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন

জেলের ভেতরে প্রতিবন্ধী কয়েদিদের জীবনযাত্রার মান এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তার অভাব নিয়ে দায়ের করা এক পিটিশনের প্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালত জানিয়েছে, বিচারপতি এস রবীন্দ্র ভাটের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের সংস্কার ও প্রশাসনিক কমিটি এই বিষয়টির তদারকি করবে। বিশেষ করে হুইলচেয়ার, শ্রবণ সহায়ক যন্ত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর কর্মপরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামী চার মাসের মধ্যে কমিটিকে এই সংক্রান্ত অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে অব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ

একই দিনে পৃথক একটি মামলায় দেশে নতুন ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা পরীক্ষামূলক প্রয়োগের সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শীর্ষ আদালত। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অভিযোগ, যথাযথ নিয়ম না মেনেই দরিদ্র মানুষের ওপর ওষুধের ট্রায়াল চালানো হচ্ছে, যার ফলে বিগত বছরগুলোতে কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আদালত এই সংক্রান্ত ২০২৪ সালের নতুন বিধিমালার ফাঁকফোকরগুলো চিহ্নিত করে একটি বিস্তারিত নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এই রায়ের ফলে দেশের কারাগারগুলোতে পরিকাঠামোগত পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আরও সুগম পরিবেশ নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে, ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ক্ষেত্রে কঠোর আইনি কাঠামো ও স্বচ্ছতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।

এক ঝলকে

  • জেলবন্দি শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করার কড়া নির্দেশ।
  • কয়েদিদের জন্য হুইলচেয়ার ও প্রয়োজনীয় সহায়ক সরঞ্জাম সরবরাহে বিশেষ কর্মপরিকল্পনার আহ্বান।
  • বিচারপতি এস রবীন্দ্র ভাটের নেতৃত্বাধীন কমিটিকে চার মাসের মধ্যে অগ্রগতি রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ।
  • ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং ক্ষতিপূরণ নিয়ে জটিলতা কাটাতে আদালতের হস্তক্ষেপ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *