সৃষ্টিকর্তা কী অশুচি হতে পারেন? — সবরীমালা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের কড়া প্রশ্ন

সৃষ্টিকর্তা কী অশুচি হতে পারেন? — সবরীমালা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের কড়া প্রশ্ন

ভারতের কেরালা রাজ্যের শবরীমালা মন্দিরে ঋতুমতী নারীদের প্রবেশের অধিকার সংক্রান্ত এক মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ প্রদান করেছে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন ৯ সদস্যের একটি সাংবিধানিক বেঞ্চ প্রশ্ন তুলেছে যে, একজন ভক্ত তার সৃষ্টিকর্তাকে স্পর্শ করলে বিগ্রহ বা দেবতা কীভাবে অপবিত্র হতে পারেন? মন্দিরের প্রধান পুরোহিতের যুক্তির পরিপ্রেক্ষিতে আদালত সংবিধানের মর্যাদা ও ভক্তের বিশ্বাসের অধিকারের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে।

যুক্তি ও পাল্টা যুক্তি

শুনানিতে মন্দিরের প্রধান পুরোহিতের আইনজীবী দাবি করেন, সংবিধানের ২৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রবেশের অধিকার সংশ্লিষ্ট দেবতার বিশেষ ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত। তিনি যুক্তি দেন, মন্দিরের প্রথা ও আচার রক্ষা করা ধর্মের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। এর বিপরীতে বিচারপতি আহসানুদ্দিন আমানুল্লাহ প্রশ্ন করেন, শুধুমাত্র জন্ম, বংশ বা শারীরিক কোনো পরিস্থিতির কারণে যদি ভক্তকে দেবতা স্পর্শ করতে বাধা দেওয়া হয়, তবে সংবিধান কি নীরব দর্শক হয়ে থাকবে? তিনি স্পষ্টভাবে জানান, এমন পরিস্থিতিতে ভক্তের পাশে সংবিধানকেই দাঁড়াতে হবে।

বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার আওতা

আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেছে যে, ধর্মীয় প্রথাগুলো পুরোপুরি বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার বাইরে হতে পারে না। সামাজিক সংস্কারের প্রয়োজনে কোনো প্রথা যুক্তিসঙ্গত কি না, তা যাচাই করার দায়িত্ব আদালতের রয়েছে। বেঞ্চের মতে, ভক্ত যখন পূর্ণ বিশ্বাস ও পবিত্র মনে সৃষ্টিকর্তার কাছে যান, তখন তাকে অশুচি বলে বিগ্রহ স্পর্শে বাধা দেওয়ার যৌক্তিকতা কতটুকু, তা পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে। এই মামলার রায় ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সাংবিধানিক সাম্যের অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এক ঝলকে

  • শবরীমালা মন্দিরে নারীর প্রবেশাধিকার ও ধর্মীয় স্পর্শকাতরতা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
  • মন্দির কর্তৃপক্ষের দাবি, মন্দিরের দীর্ঘদিনের প্রথা ও দেবতার বিশেষ বৈশিষ্ট্য রক্ষা করা ধর্মেরই অংশ।
  • সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, জন্ম বা লিঙ্গের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য হলে সংবিধান সেখানে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য।
  • ধর্মীয় আচারগুলো বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার ঊর্ধ্বে নয় বলে পরিষ্কার বার্তা দিয়েছে ৯ বিচারপতির বেঞ্চ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *