‘১০০% ইথানলেই ছুটবে গাড়ি!’— জ্বালানি সংকটে মোদী সরকারের মেগা মাস্টার প্ল্যান

পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে ক্রমবর্ধমান অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে জ্বালানি খাতে ভারতকে স্বনির্ভর করতে বড় পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান ফেডারেশন অফ গ্রিন এনার্জির এক সম্মেলনে তিনি জানান, দেশীয় অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অদূর ভবিষ্যতে শতভাগ ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি বা ‘ফ্লেক্স-ফুয়েল’ চালিত গাড়ি চালুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। বর্তমানে দেশে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল ব্যবহৃত হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
জ্বালানি স্বনির্ভরতা ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা
ভারত বর্তমানে তার চাহিদার প্রায় ৮৭ শতাংশ তেল বিদেশ থেকে আমদানি করে, যার পেছনে প্রতি বছর প্রায় ২২ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় হয়। এই বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং পরিবেশ দূষণ রোধে বিকল্প জ্বালানি ও জৈব জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো এখন সময়ের দাবি। গড়করি স্পষ্ট করেছেন যে, ব্রাজিল ইতিমধ্যে শতভাগ ইথানল ব্যবহারে সফল হয়েছে এবং ভারতেও সেই মডেল অনুসরণের পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে। এটি কেবল খরচ কমাবে না, বরং অভ্যন্তরীণ কৃষি খাত থেকে উৎপাদিত ইথানলের ব্যবহার বাড়িয়ে গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।
ভবিষ্যতের লক্ষ্য ও গ্রিন হাইড্রোজেন
জ্বালানি বিপ্লবের অংশ হিসেবে গ্রিন হাইড্রোজেনকেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। হাইড্রোজেন পাম্প পরিচালনা এবং পরিবহনের খরচ কমিয়ে প্রতি কেজিতে এক ডলারে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে, যাতে ভারত জ্বালানি আমদানিকারক থেকে রপ্তানিকারক দেশে রূপান্তরিত হতে পারে। পাশাপাশি, ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হতে যাওয়া জ্বালানি দক্ষতার নতুন মানদণ্ড (CAFE-III) ইলেকট্রিক ও ফ্লেক্স-ফুয়েল যানবাহনের প্রসারে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলোকে গুণগত মানের দিকে নজর দিয়ে পেট্রোল ও ডিজেল ইঞ্জিনের বিকল্প তৈরিতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এক ঝলকে
- ২০২৩ সালে চালু হওয়া ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রণ থেকে ধাপে ধাপে ১০০ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা।
- তেল আমদানিতে প্রতি বছর ব্যয় হওয়া ২২ লক্ষ কোটি টাকা সাশ্রয়ের পরিকল্পনা।
- পশ্চিম এশিয়ার সংকটের কারণে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎসে গুরুত্ব।
- গ্রিন হাইড্রোজেনের উৎপাদন খরচ কমিয়ে ভারতকে জ্বালানি রপ্তানিকারক করার স্বপ্ন।