সাবধান! আপনার পছন্দের চায়ে কি মেশানো হচ্ছে কাঠের গুঁড়ো ও বিষাক্ত রং? হায়দ্রাবাদে ধরা পড়ল বড় চক্র

সাবধান! আপনার পছন্দের চায়ে কি মেশানো হচ্ছে কাঠের গুঁড়ো ও বিষাক্ত রং? হায়দ্রাবাদে ধরা পড়ল বড় চক্র

হায়দ্রাবাদে একটি বড়সড় ভেজাল চা পাতা তৈরির কারখানার হদিস পেয়েছে পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চালানো এই অভিযানে অন্তত ১০ জন অসাধু চক্রের সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত নিম্নমানের ও অস্বাস্থ্যকর উপাদানের মাধ্যমে নকল চা পাতা তৈরি করে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলছিল। নামি দামী ব্র্যান্ডের মোড়ক ব্যবহার করে এই বিষাক্ত মিশ্রণ স্থানীয় হোটেল, ধাবা ও খুচরা দোকানে কম দামে ছড়িয়ে দেওয়া হতো।

কাঠের গুঁড়ো ও রাসায়নিকের মিশ্রণ

চক্রটি চা পাতার ওজন বাড়াতে কাঠের গুঁড়ো এবং আকর্ষণীয় রঙ আনতে বিষাক্ত সিন্থেটিক কালার ব্যবহার করত। এমনকি চায়ে কড়া স্বাদ ও মিষ্টতা আনতে মেশানো হতো গুড় বা নিম্নমানের চিনির ক্বাথ। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত বা মেয়াদোত্তীর্ণ চা পাতা সংগ্রহ করে তাতে এসব ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশিয়ে পুনরায় নতুনের মতো বাজারজাত করার প্রমাণ মিলেছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভেজাল পণ্যসহ চা প্যাকেটজাত করার মেশিনও জব্দ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি ও ক্যানসারের সম্ভাবনা

চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে এই ধরণের কৃত্রিম রঙ ও রাসায়নিক মিশ্রিত চা পান করলে লিভার এবং কিডনির কার্যক্ষমতা স্থায়ীভাবে নষ্ট হতে পারে। এছাড়া কাঠের গুঁড়ো ও বিষাক্ত টক্সিন পেটে গিয়ে হজমশক্তি নষ্টসহ দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের মতো প্রাণঘাতী রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। পুলিশ বর্তমানে ওই সব ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে, যারা জেনেশুনে এই চক্রের থেকে সস্তায় চা সংগ্রহ করে সাধারণ মানুষের জীবন বিপন্ন করছিল।

এক ঝলকে

  • হায়দ্রাবাদ পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভেজাল চা পাতা তৈরির চক্রের ১০ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।
  • চা পাতার ওজন ও রঙ বাড়াতে ক্ষতিকর কাঠের গুঁড়ো এবং সিন্থেটিক কেমিক্যাল মেশানো হতো।
  • নামি ব্র্যান্ডের জাল প্যাকেট ব্যবহার করে এসব চা স্থানীয় হোটেল ও ছোট দোকানে সরবরাহ করা হতো।
  • বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ভেজাল চা পানে ক্যানসার ও কিডনি বিকল হওয়ার মতো মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *