‘অসভ্য তৈরির ফ্যাক্টরি!’ মোদীর সুরেই যাদবপুরকে বেনজির আক্রমণ দিলীপ ঘোষের

২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আবহে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনার পারদ চড়ল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্তব্যের রেশ ধরে এবার সরাসরি আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। শনিবার সকালে ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে ‘অসভ্য বানানোর ফ্যাক্টরি’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর দাবি, একসময়ের স্বনামধন্য এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে দেশবিরোধী কার্যকলাপের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
শিক্ষা বনাম অরাজকতার সংঘাত
দিলীপ ঘোষের এই কড়া বার্তার নেপথ্যে রয়েছে শুক্রবার বারুইপুরে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য। মোদী অভিযোগ করেছিলেন, জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা যাদবপুরে এখন হুমকির সংস্কৃতি এবং দেশবিরোধী স্লোগান প্রাধান্য পাচ্ছে। একই সুরে দিলীপ ঘোষ মনে করিয়ে দেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় বা রাজ্যপালের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনাগুলোর কথা। তিনি সাফ জানান, শিক্ষার বদলে আন্দোলনের নামে অরাজকতা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
পাল্টা আক্রমণে শাসক দল
বিজেপি নেতৃত্বের এই লাগাতার আক্রমণের মুখে চুপ থাকেনি তৃণমূল কংগ্রেসও। হাওড়ার জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাদবপুরকে ‘রাজ্যের গর্ব’ হিসেবে উল্লেখ করে জানান, এই প্রতিষ্ঠান দেশের সেরাদের মধ্যে অন্যতম। ছাত্র-যুবদের প্রতিবাদ করার গণতান্ত্রিক অধিকারকে নৈরাজ্য বলে তকমা দেওয়া অনুচিত বলে তিনি দাবি করেন। মূলত নির্বাচনের মুখে যাদবপুরের গরিমা ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বাগযুদ্ধ এখন তুঙ্গে।
রাজনৈতিক প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যাদবপুর ইস্যুকে হাতিয়ার করে বিজেপি মূলত রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও শিক্ষা ব্যবস্থার রাজনীতিকরণকে ভোটারদের সামনে তুলে ধরতে চাইছে। অন্যদিকে, ছাত্র ও যুব সমাজের ভাবাবেগকে কাজে লাগিয়ে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ছে শাসক দল। ভোটের লড়াইয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এই বিতর্ক সাধারণ মানুষের জনমত গঠনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
এক ঝলকে
- প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘অসভ্য তৈরির কারখানা’ বলে তোপ দাগলেন দিলীপ ঘোষ।
- বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশবিরোধী পরিবেশ ও অরাজকতা চলছে বলে অভিযোগ তুলেছে বিজেপি নেতৃত্ব।
- পালটা জবাবে যাদবপুরকে ‘দেশের গর্ব’ এবং ছাত্রদের প্রতিবাদকে ‘গণতান্ত্রিক অধিকার’ বলে উল্লেখ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
- বিধানসভা ভোটের মুখে এই বিতর্ক রাজ্যের শিক্ষা ও রাজনীতির অঙ্গনে নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে।