“আইপ্যাক এজেন্টদের দেখলেই বেঁধে রাখুন!” ভোট মিটতেই মুর্শিদাবাদে ‘চোরাশিকারি’র হানা, বিস্ফোরক অধীর

“আইপ্যাক এজেন্টদের দেখলেই বেঁধে রাখুন!” ভোট মিটতেই মুর্শিদাবাদে ‘চোরাশিকারি’র হানা, বিস্ফোরক অধীর

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট মিটতেই মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। ভোটগ্রহণের রেশ কাটতে না কাটতেই তৃণমূল কংগ্রেস এবং ভোট কুশলী সংস্থা ‘আইপ্যাক’-এর বিরুদ্ধে ঘোড়া কেনাবেচার বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী। তাঁর দাবি, জেলায় পরাজয় নিশ্চিত জেনে এখন কংগ্রেস প্রার্থীদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে দলে টানার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে শাসক দল।

অভিযোগের তির আইপ্যাকের দিকে

অধীর চৌধুরীর অভিযোগ, আইপ্যাকের প্রতিনিধিরা ছদ্মবেশে কংগ্রেস প্রার্থীদের বাড়িতে গিয়ে যোগাযোগ করছেন। সেখানে সরাসরি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ফোনে কথা বলিয়ে দিয়ে নানা ধরনের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, এই পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হচ্ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে। কর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, এলাকায় এমন কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখা গেলে যেন তৎক্ষণাৎ তাঁদের আটকে রেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।

রাজনৈতিক সংকটের ইঙ্গিত

প্রথম দফার নির্বাচনের পর থেকেই জেলায় উত্তেজনার পারদ চড়ছিল। অধীর চৌধুরীর মতে, শাসক দল বর্তমানে চরম অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে এবং ক্ষমতা হারানোর ভয়েই এই ধরনের ‘চোরাশিকারি’র পথ বেছে নিয়েছে। যেখানে যেখানে কংগ্রেসের জয়ের সম্ভাবনা প্রবল, সেখানেই এই ধরনের অনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে তিনি মনে করছেন। মূলত নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের আগেই ঘর গোছাতে এই কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে তাঁর বিশ্লেষণ।

সম্ভাব্য প্রভাব

এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ফলে মুর্শিদাবাদের নির্বাচনী পরবর্তী শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, অধীরের এই কড়া অবস্থান যেমন দলের কর্মীদের মনোবল ধরে রাখতে সাহায্য করবে, তেমনই তৃণমূল ও কংগ্রেসের মধ্যেকার সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলবে। এর ফলে ভোট গণনা পরবর্তী সময়েও জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ প্রভাব পড়তে পারে।

এক ঝলকে

  • মুর্শিদাবাদে কংগ্রেস প্রার্থীদের প্রলোভন দেখিয়ে দলে টানার অভিযোগ আনলেন অধীর চৌধুরী।
  • এই ঘটনায় ভোট কুশলী সংস্থা আইপ্যাক এবং তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের যোগসাজশের দাবি করা হয়েছে।
  • পরাজিত হওয়ার ভয়েই শাসক দল এমন অনৈতিক কাজ করছে বলে কংগ্রেস প্রার্থীর দাবি।
  • সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *