মার্কিন অবরোধ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সমুদ্রপথে ইরানের তেল পাচার!

মার্কিন অবরোধ বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সমুদ্রপথে ইরানের তেল পাচার!

আন্তর্জাতিক জলসীমা ও ট্র্যাকিং সিস্টেমকে ফাঁকি দিয়ে গত কয়েক দিনে ইরানের অন্তত ৩৪টি তেলবাহী ট্যাঙ্কার মার্কিন নৌবাহিনীর কঠোর নজরদারি এড়িয়ে গন্তব্যে পৌঁছেছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ‘ডার্ক ট্রানজিট’, এআইএস স্পুফিং এবং পতাকাবদলের মতো ‘ঘোস্ট ফ্লিট’ কৌশল ব্যবহার করে এই জাহাজগুলো সফলভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়েছে। এতে প্রায় ৯১০ মিলিয়ন ডলারের রাজস্ব আয় করেছে তেহরান, যা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জলপথ নিয়ন্ত্রণের দাবিকে বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

ভারত ও পাকিস্তানের সমুদ্রসীমার কৌশলগত ব্যবহার

মার্কিন গবেষক ও বিনিয়োগকারী জিম বিয়াঙ্কো একটি মানচিত্র প্রকাশ করে চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তাঁর মতে, ইরানি জাহাজগুলো আন্তর্জাতিক জলসীমা এড়িয়ে ভারত ও পাকিস্তানের নিজস্ব সমুদ্রসীমার ভেতর দিয়ে যাতায়াত করছে। খারিগ দ্বীপ থেকে মুম্বাই পর্যন্ত যাত্রাপথে এই দেশগুলোর জলসীমা ব্যবহারের ফলে মার্কিন নৌবাহিনী সেখানে হস্তক্ষেপে আইনি জটিলতার মুখে পড়ছে। আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন বা ‘ইউএনসিএলওএস’ অনুযায়ী, যেকোনো উপকূলীয় দেশের জলসীমার ওপর সেই দেশের সার্বভৌম অধিকার থাকে, যেখানে তৃতীয় কোনো দেশ বিনা অনুমতিতে অভিযান চালাতে পারে না।

অবরোধের কার্যকারিতা ও ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব

এই ঘটনার ফলে হোর্মুজ প্রণালীতে মার্কিন একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওয়াশিংটন যখন দাবি করছে তারা সমুদ্রপথ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে, তখন ভারত ও পাকিস্তানের জলসীমাকে ‘নিরাপদ করিডোর’ হিসেবে ব্যবহার করে ইরানের এই তেল রপ্তানি মার্কিন কূটনৈতিক ও সামরিক কৌশলকে দুর্বল করে দিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সার্বভৌমত্বকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করায় যুক্তরাষ্ট্র চাইলেই এই ট্যাঙ্কারগুলো আটকাতে পারছে না। এর ফলে ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রভাব প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

এক ঝলকে

  • মার্কিন নৌবাহিনীর নজরদারি এড়িয়ে ইরানের ৩৪টি তেল ট্যাঙ্কার সফলভাবে তেল সরবরাহ করেছে।
  • ‘ঘোস্ট ফ্লিট’ ও ট্র্যাকিং সিস্টেম জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ১০.৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পাচার করা হয়েছে।
  • ভারত ও পাকিস্তানের জলসীমাকে ব্যবহার করায় আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে জাহাজ আটকাতে পারছে না।
  • এই তেল বিক্রির মাধ্যমে ইরান আনুমানিক ৯১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রাজস্ব আয় করেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *