যাদবপুর কি তবে সন্ত্রাসবাদী? প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিবাদে গর্জে উঠল বিশ্ববিদ্যালয়!

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠনপাঠন এবং শিক্ষার্থীদের গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের জেরে উত্তাল হয়ে উঠল ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে দেশবিরোধী স্লোগান এবং শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার বদলে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেন— প্রধানমন্ত্রীর এই অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার বিক্ষোভ মিছিলে শামিল হন পড়ুয়া ও প্রাক্তনীদের একাংশ। মিছিল থেকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পাল্টা যুক্তি তুলে ধরেন আন্দোলনকারীরা।
সোমবারের এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা পোস্টার ও ব্যানারে ছিল শ্লেষ আর ক্ষোভের ছোঁয়া। কোনো পোস্টারে লেখা ছিল, ‘আমার নাম যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, আমি সন্ত্রাসবাদী নই’। আবার কোথাও বামপন্থী ছাত্র সংগঠনের লাল ব্যানারে লেখা ছিল, ‘বাবুল থেকে ব্রাত্য, যাদবপুরেই ব্যর্থ’। মূলত ক্যাম্পাসের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টার প্রতিবাদেই এই পথে নামা বলে দাবি করেছেন আন্দোলনকারীরা।
সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু ও প্রভাব
ঘটনার সূত্রপাত প্রধানমন্ত্রীর এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে, যেখানে তিনি দাবি করেছিলেন যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশবিরোধী দেওয়াল লিখন এবং অপ্রয়োজনীয় আন্দোলনের সংস্কৃতি চলছে। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার মূল স্রোত থেকে বিচ্যুত হচ্ছেন। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, পড়ুয়াদের দাবি, তাঁদের গণতান্ত্রিক প্রতিবাদকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘সন্ত্রাসবাদ’ বা ‘দেশবিরোধিতা’ হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
এক ঝলকে
- প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগের প্রতিবাদে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ও প্রাক্তনীদের বিশাল বিক্ষোভ মিছিল।
- ‘আমি সন্ত্রাসবাদী নই’ স্লোগান সম্বলিত পোস্টার নিয়ে রাজপথে নামেন আন্দোলনকারীরা।
- ক্যাম্পাসের দেওয়াল লিখন এবং আন্দোলনের সংস্কৃতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনাই এই প্রতিবাদের প্রধান কারণ।
- রাজনৈতিক চাপানউতোরের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ও শিক্ষা পরিবেশ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে।