‘প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি’ দিয়ে এক্তিয়ার লঙ্ঘন করেছেন পুলিশ পর্যবেক্ষক? ডায়মন্ড হারবারের ঘটনায় কমিশনের ‘হ্যান্ডবুক’ নিয়ে উঠছে প্রশ্ন

ডায়মন্ড হারবারের পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মার একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের এই পুলিশ কর্তার বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে চমকানো এবং ধমকানোর অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। শাসকদলের প্রশ্ন, একজন নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষকের কি সাধারণ মানুষকে এমন প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি দেওয়ার এক্তিয়ার আদৌ রয়েছে?
কী বলছে কমিশনের ‘অবজ়ার্ভার হ্যান্ডবুক’?
নির্বাচন কমিশনের ২০২৪ সালের অগস্টে প্রকাশিত ‘অবজ়ার্ভার হ্যান্ডবুক’-এর প্রথম খণ্ড অনুযায়ী, পর্যবেক্ষকদের মূল কাজ হলো ভোট প্রক্রিয়ার ওপর নজরদারি চালানো। তাঁরা হলেন ভোটের সময়ে কমিশনের ‘চোখ এবং কান’, কোনওভাবেই কমিশনের মুখপাত্র নন। তাঁদের প্রধান দায়িত্ব তৃণমূল স্তরের তথ্য সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে জানানো। নিয়ম অনুযায়ী, তাঁরা সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না, কাউকে কোনও সরাসরি নির্দেশ দিতে পারবেন না এবং তাঁদের দেওয়া রিপোর্ট সম্পূর্ণ গোপনীয়। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রশাসনকে সাহায্য করাই তাঁদের নিয়োগের প্রাথমিক লক্ষ্য।
কী বলছেন প্রাক্তন পুলিশ আধিকারিকরা?
এই ভাইরাল ভিডিওর প্রেক্ষিতে অতীতে পুলিশ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব সামলানো একাধিক প্রাক্তন আইপিএস আধিকারিক জানিয়েছেন, কোনও পুলিশ পর্যবেক্ষক জনসাধারণের সামনে এভাবে হুমকি বা হুঁশিয়ারি দিতে পারেন না। তাঁদের কাজ শুধুমাত্র পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং ইসিআই-কে (ECI) রিপোর্ট দেওয়া। কোনও ঘটনা ঘটলে তাঁরা স্থানীয় প্রশাসনকে জানাতে পারেন, কিন্তু নিজে থেকে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া বা হুমকি দেওয়া সম্পূর্ণ নিয়ম ও এক্তিয়ার বহির্ভূত কাজ।
তৃণমূলের মারাত্মক অভিযোগ ও পাল্টা হুঁশিয়ারি
অজয় পাল শর্মার বিরুদ্ধে তৃণমূল অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ এনেছে। রাজ্যের শাসকদলের দাবি, রাতের অন্ধকারে সাধারণ মানুষের বাড়িতে তল্লাশির নামে ঢুকে তিনি মহিলাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করছেন। শুধু তাই নয়, উত্তরপ্রদেশে ‘সিংহম’ বা ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ হিসেবে পরিচিত এই আইপিএস অফিসারের বিরুদ্ধে ২০২০ সালে দুর্নীতির অভিযোগ এবং এক মহিলার সঙ্গে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলা ছিল বলেও দাবি করেছে তৃণমূল।
সাংবাদিক বৈঠক করে শাসকদলের তরফে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে, “৪ মে-র পর নির্বাচন মিটে গেলে আপনি নিজের রাজ্যে ফিরে গিয়ে বেঁচে যাবেন, এমনটা ভাবলে ভুল করবেন। আপনি যেখানেই যান না কেন, আপনার নামে এফআইআর এবং চার্জশিট দায়ের করা হবে। আপনাকে এ রাজ্যের আদালতেই টেনে আনা হবে এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কী বলছে নির্বাচন কমিশন?
পর্যবেক্ষকের ভূমিকা এবং তৃণমূলের এই অভিযোগ প্রসঙ্গে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ অগ্রবাল জানিয়েছেন, “যে কারও বিরুদ্ধেই অভিযোগ থাকতে পারে এবং তা আইন অনুযায়ীই দেখা হবে। এর সঙ্গে নির্বাচনে কাজ করার সরাসরি সম্পর্ক নেই। তবে ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ এলে তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।”
প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করেছেন স্বাধীন মানব দাস।