চাবাহার বন্দর নিয়ে টানাপোড়েন: আমেরিকার নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষে ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ মোডে নয়াদিল্লি

একদিকে আমেরিকার কড়া নিষেধাজ্ঞা, অন্যদিকে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি— এই জোড়া ফলায় ব্যাপক ফাঁপড়ে পড়েছে নয়াদিল্লি। গত রবিবার (২৬ এপ্রিল, ২০২৬) চাবাহার বন্দরে ভারতের বিনিয়োগ এবং ব্যবহারের ওপর আমেরিকার দেওয়া নিষেধাজ্ঞার ছাড়ের মেয়াদ শেষ হয়েছে। এই জটিল পরিস্থিতিতে ভারতের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
কী বলছে বিদেশ মন্ত্রক?
চাবাহার বন্দরের ভবিষ্যৎ নিয়ে সোমবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মুখ খোলেন। তিনি বলেন, “আমেরিকা এবং ইরান, দুই পক্ষের সঙ্গেই আমাদের আলোচনা চলছে।” তবে পশ্চিম এশিয়ার এই আঞ্চলিক সংঘাত যে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, তা অকপটে স্বীকার করে নিয়েছেন তিনি। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, পরিস্থিতি যেমন এগোবে, সরকার সেই অনুযায়ী তথ্য জানাতে থাকবে।
নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ও বর্তমান জটিলতা
গত বছরের (২০২৫) সেপ্টেম্বরে ইরানের ওপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চাবাহার বন্দর প্রকল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ভারতের ওপর কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি। পরে পরিস্থিতি বিবেচনা করে দিল্লিকে সাময়িক স্বস্তি দিয়ে ছ’মাসের জন্য এই নিষেধাজ্ঞায় ছাড় দেওয়া হয়। গত রবিবার সেই ছাড়ের মেয়াদ ফুরিয়েছে, যার ফলেই এই নতুন করে ত্রিপাক্ষিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে।
ভারতের জন্য চাবাহার বন্দর কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
- কৌশলগত অবস্থান: ইরানের দক্ষিণ উপকূলে সিস্তান-বালোচিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত এই বন্দর ভারতের জন্য কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
- বাণিজ্যিক রুট: এর নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি হাতে পেলে আফগানিস্তান, ইরান হয়ে রাশিয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণ জলপথ ভারতের হাতের মুঠোয় চলে আসবে।
- পাকিস্তানকে এড়িয়ে যাওয়া: এই বন্দরের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো পাকিস্তানকে পুরোপুরি পাশ কাটিয়ে আফগানিস্তান এবং পশ্চিম এশিয়ায় সহজে রফতানি পৌঁছানো সম্ভব হবে। আগামী দিনে এটি ইউরোপ ও এশিয়ার একাধিক অঞ্চলের সঙ্গে প্রধান সংযোগস্থল হয়ে ওঠার ক্ষমতা রাখে।
ভবিষ্যৎ কী?
বাণিজ্যিক দিক থেকে চাবাহার বন্দর ভারতের অন্যতম ‘তুরুপের তাস’। আর সেই কারণেই তেহরানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে এই বন্দর প্রকল্পের কাজ শুরু করেছিল ভারত। এর আগে বন্দর উন্নয়নে প্রতি বছর প্রায় ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দও করা হচ্ছিল। কিন্তু আমেরিকা-ইরান সংঘাত এবং নিষেধাজ্ঞার জেরে গোটা প্রকল্পই এখন বিশ বাঁও জলে। পরিস্থিতি এতটাই অনিশ্চিত যে, চলতি বছরের বাজেটেও এই প্রকল্পের জন্য সরকার কোনও আলাদা বরাদ্দ ঘোষণা করেনি। আপাতত ত্রিমুখী আলোচনায় পুরো পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ নীতিতেই এগোতে চাইছে নয়াদিল্লি।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।