‘সিংহম’ পুলিশ পর্যবেক্ষকের দুর্নীতির পর্দাফাঁস! যোগীরাজ্যের আইপিএস-কে নিয়ে সরব তৃণমূল ও অখিলেশ যাদব

‘সিংহম’ পুলিশ পর্যবেক্ষকের দুর্নীতির পর্দাফাঁস! যোগীরাজ্যের আইপিএস-কে নিয়ে সরব তৃণমূল ও অখিলেশ যাদব

বিধানসভা নির্বাচনে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে বাংলায় দায়িত্ব পেয়ে এসেছেন বিজেপিশাসিত রাজ্যের একাধিক পুলিশ আধিকারিক। সম্প্রতি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় তৃণমূল প্রার্থীর বাড়িতে হানা দিয়ে বিতর্কে জড়ানো উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের আইপিএস (IPS) অফিসার অজয় পাল শর্মাকে নিয়ে এবার বিস্ফোরক অভিযোগ আনল তৃণমূল কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। আধিকারিকের মোড়কে তাঁরা আসলে বিজেপির ‘এজেন্ট’, এমনটাই দাবি করা হয়েছে।

টাকার বিনিময়ে পোস্টিং এবং সিট-এর তদন্ত

ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির শেখের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এবং প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি দিয়ে নিজেকে ‘দাবাং’ বা ‘সিংহম’ প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন এই আধিকারিক, এমনটাই অভিযোগ শাসকদলের। সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর ভিডিও ভাইরাল হলেও, তৃণমূল তাঁর অতীত ইতিহাসের কথা তুলে ধরেছে। দলের দাবি, ২০২০ সালে উত্তরপ্রদেশের রামপুরের তৎকালীন পুলিশ সুপার অজয় পাল শর্মার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে পছন্দমতো পোস্টিং (Cash for posting) দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ এতটাই বড় ছিল যে, যোগী প্রশাসন বাধ্য হয়ে তাঁকে বদলি করে উন্নাওয়ের পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠায়। তাঁর এবং আরও ৫ আইপিএস আধিকারিকের বিরুদ্ধে সিট (SIT) গঠন করে তদন্ত শুরু হয়েছিল।

প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলা

কেবল কর্মক্ষেত্রে দুর্নীতি নয়, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে এনেছে তৃণমূল। দলের দাবি, এক মহিলাকে বিয়ে করে অন্য মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক রাখার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। ওই মহিলা যখন বিচার চেয়ে উত্তরপ্রদেশের ডিজিপি-র দ্বারস্থ হন, তখন অজয় পাল শর্মা উল্টে তাঁর বিরুদ্ধেই চক্রান্ত করেন বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত ওই মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ এই আইপিএস অফিসারের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করতে বাধ্য হয়।

অখিলেশের তোপ: ‘এজেন্টদের টেনে বের করে শাস্তি দেব’

এই পুলিশ আধিকারিকরা যে আসলে বিজেপির অলিখিত এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন, তা স্পষ্ট করেছেন উত্তরপ্রদেশের সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব। তিনি দাবি করেন, রামপুর ও সম্ভল থেকে বিজেপি তাদের পরীক্ষিত এজেন্টদের পর্যবেক্ষক নাম দিয়ে বাংলায় পাঠিয়েছে। তবে এতে কোনও লাভ হবে না, কারণ বাংলায় ‘দিদি’ই থাকবেন।

এর পাশাপাশি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে অখিলেশ জানিয়েছেন, এই দুর্নীতিগ্রস্ত আইপিএস আধিকারিকদের উত্তরপ্রদেশে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে। সপা সুপ্রিমোর কথায়, “বিজেপির এই এজেন্ডার এজেন্ট এবং তাদের সহযোগীদের অপরাধমূলক কাজের গভীর তদন্ত করা হবে। আধিকারিকের নামে এরা সবাই অলিখিত আন্ডারগ্রাউন্ড সদস্য। আমরা এদের পালাতেও দেব না, আন্ডারগ্রাউন্ড হতেও দেব না। খুঁজে টেনে বের করব, এরা এদের কৃতকর্মের শাস্তি পাবেই। গণতন্ত্রের অপরাধীরা কিছুতেই পার পাবে না।”

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *