১ মে থেকে অনলাইন গেমিংয়ে বড়সড় রদবদল! নিষিদ্ধ হচ্ছে আসল টাকার খেলা, বৈধতা পেল ই-স্পোর্টস

১ মে থেকে অনলাইন গেমিংয়ে বড়সড় রদবদল! নিষিদ্ধ হচ্ছে আসল টাকার খেলা, বৈধতা পেল ই-স্পোর্টস

ভারতে অনলাইন গেমিংয়ের দুনিয়ায় আসতে চলেছে যুগান্তকারী পরিবর্তন। আগামী ১ মে (২০২৬) থেকে দেশে অনলাইন গেমিং সংক্রান্ত নতুন নিয়মকানুন কার্যকর হতে চলেছে। এই নতুন কাঠামোর মূল লক্ষ্য হলো—আসল টাকার বিনিময়ে খেলা বা ‘রিয়েল মানি গেমিং’-কে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা এবং ই-স্পোর্টস ও সোশ্যাল গেমিংকে উৎসাহিত করা।

নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা: ডিজিটাল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া

অনলাইন গেমিং খাতকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ‘ডিজিটাল অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ নামে একটি নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন করা হচ্ছে। দিল্লির সদর দফতর থেকে এটি পরিচালিত হবে এবং এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব সামলাবেন ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের একজন অতিরিক্ত সচিব। এই সংস্থায় স্বরাষ্ট্র, অর্থ, ক্রীড়া, আইন এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের প্রতিনিধিরাও থাকবেন। নিষিদ্ধ গেমের তালিকা তৈরি করা, অভিযোগের শুনানি এবং পুলিশ ও ব্যাঙ্কের সঙ্গে সমন্বয় সাধনের দায়িত্ব থাকবে এই কর্তৃপক্ষের হাতে।

গেমের শ্রেণিবিন্যাস ও পরীক্ষার মাপকাঠি

কোন খেলাটি নিষিদ্ধ (অর্থের খেলা) এবং কোনটি অনুমোদিত (সামাজিক বা ই-স্পোর্টস), তা নির্ধারণ করতে একটি নির্দিষ্ট পরীক্ষা করা হবে। এই তদন্ত সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে। তদন্তের মূল ভিত্তি হবে দুটি প্রশ্ন— গেমটি খেলার জন্য কি টাকা জমা দিতে হয়? এবং এর মাধ্যমে টাকা জেতার কোনও সুযোগ রয়েছে কি?

এই তদন্ত মূলত তিনটি উপায়ে শুরু হতে পারে:

  • কর্তৃপক্ষ নিজে থেকে স্বতঃপ্রণোদিত তদন্ত শুরু করতে পারে।
  • ই-স্পোর্টস কো ম্পা নিগুলো নিজেদের উদ্যোগেই মূল্যায়নের জন্য আবেদন করতে পারে।
  • সরকার নির্দিষ্ট কোনও গেম বা বিভাগের ওপর তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে।

রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধনের নিয়ম

নতুন নিয়মে সাধারণ সামাজিক গেমগুলোর জন্য বারবার নিবন্ধনের প্রয়োজন হবে না। তবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে কড়াকড়ি থাকছে:

  • ই-স্পোর্টস: সমস্ত ই-স্পোর্টস গেমের জন্য নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। তবে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, কোনও টাকার খেলাকে কখনোই ই-স্পোর্টস হিসেবে গণ্য করা যাবে না।
  • সামাজিক গেম: যে সমস্ত সামাজিক গেমকে সরকার ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করবে (যেমন- শিশুদের জন্য ক্ষতিকর বা যেখানে বিপুল পরিমাণ আর্থিক লেনদেন হয়), শুধুমাত্র তাদেরই নিবন্ধন করতে হবে।নিবন্ধন সফল হলে কো ম্পা নিগুলিকে ১০ বছরের জন্য বৈধ শংসাপত্র প্রদান করা হবে।

নিরাপত্তা ও অভিযোগ দায়েরের পদ্ধতি

গেমিংয়ের আসক্তি এবং অন্যান্য ঝুঁকি থেকে ব্যবহারকারীদের রক্ষা করতে একাধিক সুরক্ষা বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— বয়স যাচাইকরণ, প্যারেন্টাল কন্ট্রোল (অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ), গেম খেলার সময়সীমা নির্ধারণ, জালিয়াতি রুখতে ফেয়ার-প্লে সরঞ্জাম এবং মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য পরামর্শমূলক সহায়তা।

ব্যবহারকারীদের অভিযোগ থাকলে তা সমাধানের নির্দিষ্ট পদ্ধতিও বলে দেওয়া হয়েছে:

  • প্রথমে সংশ্লিষ্ট গেমিং কো ম্পা নির কাছে অভিযোগ জানাতে হবে।
  • সমাধান না মিললে ৩০ দিনের মধ্যে অনলাইন গেমিং কর্তৃপক্ষের কাছে আপিল করা যাবে।
  • চূড়ান্ত আপিল করা যাবে সরাসরি আইটি (IT) সচিবের কাছে।

ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা

নতুন নিয়মে ব্যাঙ্কগুলির ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। ব্যাঙ্ক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো শুধুমাত্র নিবন্ধিত গেমিং কো ম্পা নিগুলোকেই অর্থপ্রদানের অনুমতি দেবে। কোনও কো ম্পা নির কাজ সন্দেহজনক মনে হলে ব্যাঙ্ক তাদের কাছে নিবন্ধন শংসাপত্র দেখতে চাইতে পারে। এছাড়া, কর্তৃপক্ষ কোনও গেম নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে, ব্যাঙ্কগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সেই গেমের সমস্ত আর্থিক লেনদেন বন্ধ করে দেবে।

প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *