রহস্যই থেকে গেল ৮৮টি বাঘের মৃত্যু! আরটিআই তথ্যে তদন্তের কঙ্কালসার দশা প্রকাশ্যে

২০২০ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ভারতের বিভিন্ন অরণ্যে মৃত বাঘেদের একটি বড় অংশের মৃত্যুর কারণ এখনও ধোঁয়াশায়। তথ্য জানার অধিকার (RTI) আইনের অধীনে করা এক প্রশ্নের উত্তরে জানা গিয়েছে, অন্তত ৮৮টি বাঘের মৃত্যুর কারণ নির্দিষ্ট করা সম্ভব হয়নি। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসার পর বন দপ্তরের নজরদারি এবং তদন্তের সদিচ্ছা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তদন্তের ‘অমীমাংসিত’ গোলকধাঁধা
সমাজকর্মী অজয় দুবের করা এক আরটিআই আবেদনের প্রেক্ষিতে এই তথ্য পাওয়া গিয়েছে। নথিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বহু ক্ষেত্রে বাঘের মৃত্যুর পর প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা শেষ পর্যন্ত কোনো যৌক্তিক সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। তদন্ত বছরের পর বছর ‘অমীমাংসিত’ অবস্থায় ঝুলে রয়েছে। ফলে, কোনো চোরাশিকারি চক্র এর পেছনে ছিল কি না, নাকি কোনো মারণ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছিল—তা আর স্পষ্ট হয়নি।
জবাবদিহির অভাব ও কর্তৃপক্ষের ভূমিকা
তদন্ত শেষ না হওয়ার সবথেকে বিপজ্জনক দিক হলো জবাবদিহির অভাব। বাঘের মতো ভারতের জাতীয় পশু এবং উচ্চ সংরক্ষণের তালিকায় থাকা প্রাণীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর সুযোগ নষ্ট হচ্ছে। যখন মৃত্যুর কারণই অজানা থেকে যাচ্ছে, তখন কোনো সুনির্দিষ্ট কর্তৃপক্ষের ওপর দায়বদ্ধতা চাপানোও কার্যত আসাম্ভব হয়ে পড়ছে। পরিবেশবিদদের মতে, তদন্তের এই শ্লথগতি এবং প্রমাণের অভাব পরোক্ষভাবে চোরাশিকারি বা অপরাধীদের সুবিধা করে দিচ্ছে।
ভারত যখন ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধির সাফল্যের খতিয়ান দিচ্ছে, তখন পেছনের সারির এই গাফিলতির চিত্রটি বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের পথে একটি বড় অন্তরায় হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।