ভোটের মুখে বিটি রোডে অস্ত্রভাণ্ডার! চিৎপুর থেকে গ্রেফতার বিহারের দুষ্কৃতী

কলকাতা পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) বড়সড় সাফল্য পেল। ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার হাইভোল্টেজ ভোটের ঠিক আগে বিটি রোডের মতো জনবহুল এলাকা থেকে উদ্ধার হলো আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ও প্রচুর কার্তুজ। গ্রেফতার করা হয়েছে বিহারের বাসিন্দা জনৈক শামিম আলমকে। এই ঘটনা ভোটের আগে শহরের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
কী কী উদ্ধার হলো?
গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সোমবার বিকেলে বিটি রোডের ওপর ওত পেতে ছিল এসটিএফ এবং চিৎপুর থানার একটি দল। শামিমকে আটক করার পর তার কাছ থেকে যা পাওয়া গিয়েছে তা রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো:
- ৩টি সিঙ্গল শটার আগ্নেয়াস্ত্র।
- ১টি ৭ মিমি অত্যাধুনিক পিস্তল।
- ৪টি খালি ম্যাগাজিন।
- ৮ মিমি ক্যালিবারের ১৪ রাউন্ড এবং ৭ মিমি ক্যালিবারের ১০০ রাউন্ড— মোট ১১৪ রাউন্ড তাজা কার্তুজ।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি ও বিহার যোগ
ধৃত ৪০ বছর বয়সী শামিম আলমের বাড়ি বিহারের নওদা জেলার রতনি এলাকায়। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, ভোটের বাজারে কলকাতায় অশান্তি ছড়াতেই এই বিপুল পরিমাণ অস্ত্র পাচার করা হচ্ছিল। তবে এই মারণাস্ত্র কার কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বা এর মাস্টারমাইন্ড কে, তা নিয়ে শামিম এখনও কোনও সন্তোষজনক উত্তর দেয়নি। আজ মঙ্গলবারই তাকে আদালতে পেশ করা হবে এবং পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করতে চায়।
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ও কমিশনের আশ্বাস
আগামীকাল ২৯ এপ্রিল কলকাতার ১৪২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। তার ঠিক আগে খাস কলকাতায় এমন অস্ত্রভাণ্ডার উদ্ধারের ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তবে কমিশনের পক্ষ থেকে অভয় দিয়ে জানানো হয়েছে যে, এই উদ্ধারকার্যই প্রমাণ করে পুলিশ ও এসটিএফ অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে। শহর জুড়ে নাকা চেকিং ও তল্লাশি আরও জোরদার করা হয়েছে যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
প্রতিবেদক: স্বাধীন মানব দাস।
ভোটের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে ভিন রাজ্যের দুষ্কৃতীর এই অনুপ্রবেশ কি কেবল বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি এর পেছনে কোনো বড় রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পাচ্ছেন আপনি?