‘কাজের পরিবেশ নেই’, দীর্ঘ সম্পর্ক ছিন্ন করে তৃণমূল ছাড়লেন সুজয় চক্রবর্তী

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে হাওড়া জেলা তৃণমূল শিবিরে বড়সড় ভাঙন দেখা দিল। সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা করলেন হাওড়া পুরসভার প্রাক্তন মুখ্য প্রশাসক তথা বর্ষীয়ান নেতা ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী। বৃহস্পতিবার একটি সাংবাদিক বৈঠক করে নিজের তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে দলত্যাগের কথা জানান তিনি। মূলত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও বঞ্চনার অভিযোগ তুলেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই চিকিৎসক-নেতা।
বঞ্চনা ও প্রশাসনিক স্থবিরতার অভিযোগ
কেন এই মোহভঙ্গ, সেই ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সুজয়বাবু হাওড়া পুরসভার প্রশাসনিক অচলাবস্থার কথা তুলে ধরেন। তাঁর প্রধান অভিযোগ, দীর্ঘ সময় পুরসভার দায়িত্ব সামলালেও প্রয়োজনীয় তহবিলের অভাবে কোনো কাজ করা সম্ভব হয়নি। বারবার পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরে আবেদন করা সত্ত্বেও কোনো অর্থ বরাদ্দ মেলেনি। এর ফলে পুরসভার কর্মীদের বেতন যেমন সময়মতো দেওয়া যাচ্ছিল না, তেমনই ঠিকাদারদের কয়েক কোটি টাকার বিল বকেয়া পড়ে রয়েছে। তৎকালীন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বারবার সাহায্যের আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি বলে দাবি করেছেন ক্ষুব্ধ এই নেতা।
অসহযোগিতা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ
দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়ের অভাব নিয়েও প্রকাশ্য মুখ খুলেছেন সুজয় চক্রবর্তী। তিনি জানান, দলের অসহযোগিতার কারণেই তিনি আগেই পুরসভার চেয়ারম্যান পদ ছেড়েছিলেন। তবে নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে এতদিন কোনো চরম সিদ্ধান্ত নেননি। দলত্যাগের পর তাঁর বিজেপিতে যোগদান নিয়ে জল্পনা শুরু হলেও, তিনি বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক দলেই যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, হাওড়া পুরসভার নির্বাচন দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকায় প্রশাসনিক স্তরে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, ডাঃ সুজয় চক্রবর্তীর ইস্তফা তারই বহিঃপ্রকাশ। একজন দক্ষ প্রশাসকের চলে যাওয়া হাওড়া জেলায় তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধীরা এই ঘটনাকে শাসক দলের অভ্যন্তরীণ কন্দল ও ব্যর্থতার প্রমাণ হিসেবেই দেখছে।