শপথের মঞ্চে বিজেপি-তৃণমূল স্লোগান যুদ্ধ, উত্তপ্ত বিধানসভার অলিন্দ
.jpeg.webp?ssl=1)
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্য রাজনীতির আঙিনা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর ঘাসফুল শিবিরের টিকে থাকা হাতেগোনা হেভিওয়েটদের অন্যতম নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় যখন শপথ নিতে কক্ষে প্রবেশ করেন, তখনই তাঁকে লক্ষ্য করে বিজেপির পক্ষ থেকে ভেসে আসে রাজনৈতিক স্লোগান। পাল্টাও দেন চৌরঙ্গীর জয়ী তৃণমূল বিধায়ক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নবগঠিত বিধানসভার প্রথম দিনেই শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে স্নায়ুযুদ্ধের ইঙ্গিত পাওয়া গেল।
স্লোগান ও পাল্টা স্লোগান
বৃহস্পতিবার চৌরঙ্গী কেন্দ্রের বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় শপথ নিতে এলে বিজেপি বিধায়ক মনোজ ওঁরাও ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান তোলেন। বিজেপি শিবিরের এই উল্লাসধ্বনির মোকাবিলায় মুহূর্ত দেরি না করে নয়না পাল্টা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন। বেশ কিছুক্ষণ দুই পক্ষের মধ্যে এই বাদানুবাদ চলার পর পরিস্থিতি থিতু হয় এবং তিনি শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জয়ের উন্মাদনা আর হারের লড়াই—এই দুই মেরুকরণই আজ বিধানসভার কক্ষে প্রতিফলিত হয়েছে।
বিরোধী শিবিরের নতুন সমীকরণ
এবারের নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৭টি আসন জিতে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি সরকার গঠন করলেও, ৮০টি আসন নিয়ে বিরোধী আসনে বসা তৃণমূল কংগ্রেস তাদের রণকৌশল সাজিয়ে ফেলেছে। অভিজ্ঞ রাজনীতিক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। তবে চমক রয়েছে ডেপুটি পজিশনে। নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অসীমা পাত্র—এই দুই মহিলা বিধায়ককে উপবিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে বিধানসভায় নারী নেতৃত্বের গুরুত্ব বাড়াতে চাইছে তৃণমূল। পাশাপাশি ফিরহাদ হাকিমকে দেওয়া হয়েছে মুখ্য সচেতকের দায়িত্ব।
স্পিকার পদে উত্তরবঙ্গের রথীন্দ্র বসু
শপথ গ্রহণের এই আবহে বিধানসভার নতুন স্পিকার বা অধ্যক্ষ পদের জন্য উত্তরবঙ্গের কোচবিহার দক্ষিণ কেন্দ্রের বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসুর নাম চূড়ান্ত করেছে শাসক দল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই এই প্রস্তাব পেশ করে জানিয়েছেন যে, সংসদীয় ঐতিহ্য রক্ষায় রথীন্দ্রনাথ বসুর অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ১৫ মে শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আপাতত প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়ের উপস্থিতিতে নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথগ্রহণের মাধ্যমে রাজ্যের নতুন সংসদীয় যাত্রা শুরু হলো।