খেলোয়াড় বদলে দিলেও বদলায়নি আধিপত্য, প্যালেসকে উড়িয়ে আর্সেনালকে চরম চাপে রাখল সিটি

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জয়ের লড়াই এখন তুঙ্গে। লিগ টেবিলের শীর্ষস্থানে থাকা আর্সেনালকে একচুলও ছাড় দিতে নারাজ ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটি। ক্রিস্টাল প্যালেসকে ৩-০ গোলে বিধ্বস্ত করে মিকেল আর্তেতার দলের ঘাড়ের ওপর তপ্ত নিঃশ্বাস ফেলছে পেপ গুয়ার্দিওলার শিষ্যরা। এই জয়ের ফলে টেবিলের শীর্ষে থাকা আর্সেনালের সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান কমিয়ে মাত্র দুইয়ে নামিয়ে আনল সিটিজেনরা।
বেঞ্চের শক্তিতেই বাজিমাত গুয়ার্দিওলার
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় ছিল ম্যান সিটির একাদশ নির্বাচন। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে আর্লিং হলান্ড ও জেরেমি ডোকুর মতো নিয়মিত তারকাদের বেঞ্চে রেখেছিলেন পেপ গুয়ার্দিওলা। দলে মোট ছয়টি পরিবর্তন আনলেও মাঠের পারফরম্যান্সে তার বিন্দুমাত্র প্রভাব পড়েনি। প্রথমার্ধেই দুই গোল আদায় করে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় সিটি। ৩২ মিনিটে ফিল ফোডেনের জাদুকরী পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন অঁতোয়ান সেমেনিয়ো। এর ঠিক আট মিনিট পর আবারও ফোডেনের সহায়তায় ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মিশরীয় ফরোয়ার্ড ওমর মারমুশ। দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে ব্রাজিলের সাভিনহো তৃতীয় গোলটি করে প্যালেসের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন।
শিরোপা লড়াইয়ে সমীকরণ ও প্রভাব
এই জয়ের পর সিটির সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৭৭ পয়েন্ট। হাতে থাকা শেষ দুই ম্যাচে জয় পেলে এবং আর্সেনাল কোনোভাবে পয়েন্ট হারালেই শিরোপা যাবে ম্যানচেস্টারে। বিশেষত গোলপার্থক্যে আর্সেনালের চেয়ে এগিয়ে থাকাটা সিটির জন্য বড় স্বস্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, প্যালেসকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা সিটিজেনরা এখন তাকিয়ে আছে আগামী সোমবারের দিকে, যেখানে আর্সেনালকে লড়তে হবে অবনমিত বার্নলির বিপক্ষে।
ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় ফিল ফোডেন জানিয়েছেন, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চাপ বজায় রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, গুয়ার্দিওলার এই ‘রোটেশন পলিসি’ এবং রিজার্ভ বেঞ্চের কার্যকারিতা সিটিকে টানা শিরোপা জয়ের পথে মানসিকভাবে অনেকটা এগিয়ে দিল। আগামী ২৪ মে লিগের শেষ দিনে নির্ধারিত হবে প্রিমিয়ার লিগের ট্রফি শেষ পর্যন্ত কার শোকেসে যাচ্ছে।