পুরনো তিক্ততা ভুলে বিধানসভায় নিরপেক্ষতার ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

পুরনো তিক্ততা ভুলে বিধানসভায় নিরপেক্ষতার ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকার পদে কোচবিহার দক্ষিণের বিধায়ক রথীন্দ্রনাথ বসুর মনোনয়ন জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে রাজ্যে সংসদীয় রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় রথীন্দ্রনাথের মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর তাঁর পাশেই দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে মন্তব্য করেছেন, তা রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। গত পাঁচ বছরে বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দুকে পাঁচবার সাসপেন্ড হতে হয়েছিল, যার ফলে প্রায় সাড়ে ১১ মাস তিনি বিধানসভার বাইরে কাটাতে বাধ্য হন। সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে বিধানসভা এক জন যোগ্য স্পিকার পাবে, যিনি বিরোধী দলনেতাকে মাসের পর মাস বাইরে রাখবেন না।

তৃণমূল জমানার প্রতি শ্লেষ ও আগামীর বার্তা

মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা দ্বিমুখী বার্তা হিসেবে দেখছেন। একদিকে তিনি পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলে বিরোধী দলের প্রতি আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন, অন্যদিকে আগামী দিনে বিধানসভার অন্দরে বিরোধী দলের প্রতি উদার ও গণতান্ত্রিক মনোভাব বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শুভেন্দুর এই অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, নতুন সরকার বিধানসভার গরিমা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। বিশেষত, স্পিকারের আসনে এমন একজনকে বসানো হচ্ছে যাঁর প্রতি শাসক ও বিরোধী—উভয় শিবিরেরই আস্থা থাকবে বলে তিনি মনে করেন।

কেন রথীন্দ্রনাথ বসুকেই বেছে নিলেন শুভেন্দু

স্পিকার পদের জন্য মনোনীত রথীন্দ্রনাথ বসু পেশায় একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট এবং দীর্ঘদিনের ‘আদি’ বিজেপি নেতা হিসেবে পরিচিত। আরএসএস বা সঙ্ঘ পরিবারের শাখা থেকে উঠে আসা এই প্রবীণ নেতার দলীয় আনুগত্য প্রশ্নাতীত। অতীতে দলের নির্দেশে ‘ডামি’ প্রার্থী হওয়ার মতো কঠিন কাজও তিনি হাসিমুখে সম্পন্ন করেছিলেন। তাঁর এই নিষ্ঠা এবং উচ্চশিক্ষিত ভাবমূর্তিকে গুরুত্ব দিয়েই মুখ্যমন্ত্রী স্বয়ং তাঁর নাম প্রস্তাব করেছেন। দিলীপ ঘোষ, শঙ্কর ঘোষ এবং অগ্নিমিত্রা পালদের মতো শীর্ষ নেতৃত্বের সমর্থন পাওয়ায় এটি পরিষ্কার যে, দল সর্বসম্মতিক্রমে একজন সজ্জন ব্যক্তিকে বিধানসভার অভিভাবক হিসেবে দেখতে চাইছে।

সংসদীয় রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

বিধানসভার স্পিকার হিসেবে রথীন্দ্রনাথ বসুর মনোনয়ন রাজ্যের সংসদীয় ইতিহাসে একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা থাকার কারণে তাঁর হাত ধরে বিধানসভার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে বিধানসভার কার্যপ্রণালীতে পক্ষপাতের অভিযোগ কমবে এবং শাসক-বিরোধী সুসম্পর্ক বজায় থাকার পথ প্রশস্ত হবে। শুক্রবার এই নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে, যা আগামী পাঁচ বছর রাজ্যের আইনসভার গতিপ্রকৃতি নির্ধারণে সহায়ক হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *