৩ মাস অন্তর ঋতুস্রাব, জরায়ুর বয়স ধরে রাখতে এক বৈপ্লবিক গবেষণার পথে বিজ্ঞানীরা!

প্রতি মাসে ঋতুস্রাবের স্বাভাবিক চক্র বদলে ফেলার লক্ষ্যে কাজ করছেন চীনের একদল গবেষক। জীববিজ্ঞানী হংমেই ওয়াংয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো, প্রতি মাসের বদলে প্রতি তিন মাস অন্তর ঋতুস্রাব ঘটিয়ে মহিলাদের জরায়ুর কার্যক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করা। বর্তমান চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রচলিত ধারায় এটি একটি অত্যন্ত সাহসী ও চাঞ্চল্যকর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফার্টিলিটি বা প্রজনন ক্ষমতা রক্ষার নতুন তত্ত্ব
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ঘন ঘন ওভিউলেশন বা ডিম্বস্ফোটনের ফলে জরায়ুর কোষগুলো দ্রুত কর্মক্ষমতা হারায়, যাকে সহজ ভাষায় জরায়ুর বয়স বৃদ্ধি বলা হয়। জীববিজ্ঞানী ওয়াংয়ের মতে, ঋতুচক্রের সময়কাল বাড়িয়ে কয়েকটি সাইকেল কমিয়ে ফেলা সম্ভব হলে জরায়ুর বয়সের গতি ধীর হবে। এর ফলে মহিলারা দীর্ঘ সময় ধরে প্রজনন ক্ষমতা বা ফার্টিলিটি ধরে রাখতে সক্ষম হবেন, যা দেরিতে সন্তান নিতে ইচ্ছুক মহিলাদের জন্য এক নতুন আশার আলো হতে পারে।
বিতর্ক ও চিকিৎসকদের সংশয়
নতুন এই থিওরি নিয়ে বিজ্ঞানী মহলে ইতিমধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। গবেষকদের একটি অংশ একে ইতিবাচক মনে করলেও, অনেকেই বিষয়টিকে ‘প্রকৃতিবিরোধী’ হিসেবে দেখছেন। চিকিৎসকদের একটি বড় অংশের মতে, ঋতুচক্রের সময় পিছিয়ে দেওয়ার চেয়ে পিসিওএস (PCOS) বা এন্ডোমেট্রিওসিসের মতো জটিল সমস্যাগুলোর প্রতিকার খুঁজে বের করা বর্তমানে বেশি জরুরি। পিরিয়ডস পিছিয়ে দেওয়ার ফলে দীর্ঘমেয়াদে শরীরে কোনো হরমোনাল ভারসাম্যহীনতা তৈরি হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও ভবিষ্যৎ
যদি এই গবেষণা সফল হয় এবং বাস্তবে এর প্রয়োগ ঘটে, তবে মহিলাদের পিরিয়ডকালীন শারীরিক অস্বস্তি ও দৈনন্দিন কর্মঘণ্টার ক্ষতি অনেকাংশে কমবে। বিশেষ করে কর্মজীবী মহিলাদের জন্য এটি স্বস্তিদায়ক হতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো প্রাথমিক গবেষণার পর্যায়ে থাকায় এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও দীর্ঘ সময়ের ক্লিনিকাল ট্রায়াল ও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। বৈজ্ঞানিকদের এই তত্ত্ব শেষ পর্যন্ত সফল হলে তা নারী স্বাস্থ্য রক্ষায় আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক বড় পরিবর্তন নিয়ে আসবে।