লালকেল্লা বিস্ফোরণ রহস্যের জট খুলল এনআইএ, চার্জশিটে উচ্চশিক্ষিত জঙ্গিদের ভয়ংকর ছক

গত বছর ১০ নভেম্বর রাজধানীর ঐতিহাসিক লালকেল্লার সামনে সেই ভয়াবহ গাড়ি-বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় এবার বড়সড় মোড় নিল। বৃহস্পতিবার দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টে ১০ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ৭৫০০ পাতার এক বিশাল চার্জশিট পেশ করেছে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। তদন্তকারী সংস্থাটির দাবি, এই নাশকতার নেপথ্যে সরাসরি যোগ ছিল আল-কায়দা ঘনিষ্ঠ জঙ্গি সংগঠন ‘আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ’-এর।
নেপথ্যে শিক্ষিত মস্তিষ্ক ও অপারেশন হেভেনলি হিন্দ
তদন্তে উঠে আসা সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, এই নাশকতায় অভিযুক্তদের বড় অংশই চিকিৎসক এবং উচ্চশিক্ষিত পেশাদার। চার্জশিট অনুযায়ী, ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন ফরিদাবাদের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ডাঃ উমর উন নবী। বিস্ফোরণস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এছাড়া অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন চিকিৎসক মুজামিল শাকিল, আদিল আহমেদ রাদার এবং শাহিন সাঈদের মতো ব্যক্তিরা। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা ‘অপারেশন হেভেনলি হিন্দ’ নামে এক গোপন অভিযানের মাধ্যমে দেশে শরিয়তি শাসন কায়েম ও সরকারকে উৎখাতের নীল নকশা তৈরি করেছিল।
মারণ বিস্ফোরক ও ড্রোনের ব্যবহার
এনআইএ-র রিপোর্ট অনুযায়ী, লালকেল্লার ওই হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরক ‘ট্রায়াসিটন ট্রাইপেরক্সাইড’ (TATP)। অভিযুক্তরা রাসায়নিক সংগ্রহ করে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার মাধ্যমে এই আইইডি তৈরি করেছিল। শুধু গাড়ি-বোমা নয়, ড্রোন এবং রকেট-ভিত্তিক বিস্ফোরক যন্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমে আরও বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতিও নিচ্ছিল এই চক্রটি। ২০২২ সালে শ্রীনগরে এক গোপন বৈঠকের মাধ্যমেই এই ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনার বীজ বপন করা হয়েছিল।
অকাট্য প্রমাণ ও আইনি পদক্ষেপ
৫৪৪ জন সাক্ষীর বয়ান এবং ৩৯৫টি গুরুত্বপূর্ণ নথির ওপর ভিত্তি করে এই বিশালাকার চার্জশিট সাজিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। উদ্ধার হওয়া ২০০টিরও বেশি বৈষয়িক প্রমাণ, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে অভিযুক্তদের অপরাধ নিশ্চিত করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে ইউএপিএ, ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং অস্ত্র আইনের একাধিক কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত বাকিদের খোঁজেও চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে এনআইএ।