সপ্তম পে কমিশন চালু হলে একধাক্কায় বিপুল বাড়তে পারে রাজ্য সরকারি কর্মীদের বেতন!

পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকেই রাজ্য সরকারি মহলে পালে হাওয়া লেগেছে সপ্তম পে কমিশন চালুর। নতুন সরকার গঠনের পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরবর্তী ক্যাবিনেট বৈঠকেই বহুল প্রতীক্ষিত এই পে কমিশন নিয়ে আলোচনা হবে। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া মহার্ঘ ভাতার (ডিএ) দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের নেতা-কর্মীরাও সরকারের এই প্রতিশ্রুতিতে নতুন করে আশায় বুক বাঁধছেন। তবে এই পে কমিশন চালু হলে ঠিক কতটা আর্থিক সুবিধা পাবেন কর্মীরা, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বেতন বৃদ্ধির সম্ভাব্য অঙ্ক ও ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর
বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তম পে কমিশনের মূল ভিত্তি হলো ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর। এর অর্থ হলো, পূর্ববর্তী পে কমিশনের তুলনায় মূল বেতন গড়ে প্রায় ২.৫৭ গুণ বৃদ্ধি পায়। উদাহারণস্বরূপ, বর্তমানে কোনো রাজ্য সরকারি কর্মচারীর মূল বেতন (বেসিক পে) যদি ২০ হাজার টাকা হয়, তবে ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর অনুযায়ী তা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ৫১ হাজার ৪০০ টাকায়। এর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় হারে ডিএ যুক্ত হলে বেতন বৃদ্ধির পরিমাণ আরও অনেকটাই বাড়বে। বর্তমানে ষষ্ঠ পে কমিশনের অধীনে থাকা রাজ্য সরকারি কর্মীরা যেখানে ১৪ শতাংশ হারে ডিএ পাচ্ছেন, সেখানে সপ্তম পে কমিশন কার্যকর হলে তা কেন্দ্রীয় হারে ৫০ শতাংশ বা তার বেশিতে পৌঁছাতে পারে।
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষের মতে, ভিন্ন ভিন্ন ক্যাডারের ক্ষেত্রে বেতনের কাঠামো আলাদা হওয়ায় সুনির্দিষ্ট অঙ্ক বলা কঠিন হলেও, একটি আনুমানিক হিসাব দেওয়া সম্ভব। যেমন, প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশা বা বিহারের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক শিক্ষকদের মূল বেতনের ফারাক প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। সপ্তম পে কমিশন যদি সঠিক নিয়মে ডিএ-সহ রাজ্যে লাগু হয়, তবে কারো বর্তমান মূল বেতন ৩০ হাজার টাকা হলে, তিনি প্রতি মাসে অন্তত ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বেশি বেতন পেতে পারেন। এছাড়া বাড়ি ভাড়া, যাতায়াত ও চিকিৎসা ভাতাও একলাফে অনেকটা বৃদ্ধি পাবে।
বঞ্চনা দূর করার দাবি অবসরপ্রাপ্তদের
নতুন পে কমিশন নিয়ে বর্তমান কর্মীরা উৎসাহিত হলেও অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের একাংশ কিন্তু সম্পূর্ণ আশ্বস্ত হতে পারছেন না। তাঁদের একাংশের দাবি, পূর্ববর্তী ষষ্ঠ পে কমিশনে মহার্ঘ ভাতার বিষয়টি সঠিকভাবে উল্লেখই করা হয়নি, যার কারণে কর্মীদের দীর্ঘদিন ধরে আইনি লড়াই ও আন্দোলন চালাতে হয়েছে। অবসরপ্রাপ্তদের বক্তব্য, রাজ্য সরকারের উচিত ষষ্ঠ পে কমিশনের আমলের সমস্ত বঞ্চনা ও বকেয়া এরিয়ারের টাকা মিটিয়ে তবেই সপ্তম পে কমিশন চালু করা। তবে সামগ্রিকভাবে এই কমিশন চালু হলে এবং তার সাথে নিয়মিত মহার্ঘ ভাতা যুক্ত হলে যে রাজ্য সরকারি কর্মীদের দীর্ঘদিনের আর্থিক অনটন ও ক্ষোভ অনেকটাই প্রশমিত হবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।