তৃণমূলের গড় ডায়মন্ড হারবারে বড় চমক, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুকে স্বাগত জানাতে প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির তৃণমূল বিধায়ক

তৃণমূলের সুপ্রিমো ও শীর্ষ নেতৃত্বের কড়া নজরদারির মাঝেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারে ঘটে গেল এক বড়সড় রাজনৈতিক চমক। শনিবার ডায়মন্ড হারবারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাইপ্রোফাইল প্রশাসনিক বৈঠককে কেন্দ্র করে যখন রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে, ঠিক তখনই সেখানে সশরীরে হাজির হলেন স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক পান্নালাল হালদার। দলের কড়া অনুশাসন উপেক্ষা করে খোদ বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে তাঁর এই আগমনকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
সৌজন্য নাকি দলবদলের ইঙ্গিত?
ডায়মন্ড হারবারের রবীন্দ্র ভবনে আয়োজিত এই প্রশাসনিক বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে তৃণমূল বিধায়ক পান্নালাল হালদার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের এই সিদ্ধান্তের পক্ষে সওয়াল করেন। তিনি স্পষ্ট জানান:
“আমি মনে করি একজন স্থানীয় বিধায়ক হিসেবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো আমার পরম কর্তব্য ও গণতান্ত্রিক দায়িত্ব। আমি শুধু ওনার সঙ্গে দেখা করে ওনাকে স্বাগত জানিয়ে চলে আসব। এর মধ্যে কোনো রাজনীতি নেই।”
এলাকার উন্নয়ন নিয়ে কথা বলার ইচ্ছা
তৃণমূল বিধায়ক আরও যোগ করেন, ডায়মন্ড হারবার দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এবং এই বিধানসভা কেন্দ্রের মানুষের স্বার্থে উন্নয়নমূলক কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। সেই কারণে দলের রং ভুলে তিনি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ডায়মন্ড হারবারের সার্বিক পরিকাঠামো ও নাগরিক উন্নয়নের বেশ কিছু দাবিদাওয়া ও খতিয়ান তুলে ধরবেন।
তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটিতে ফাটল?
রাজনৈতিক মহলের মতে, ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের প্রধান শক্তিপীঠ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক দুর্গ হিসেবে পরিচিত। সেই লোকসভারই অন্তর্গত ডায়মন্ড হারবার বিধানসভার তৃণমূল বিধায়কের এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে যাওয়া এবং তাঁর বৈঠকে অংশ নেওয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর দক্ষিণবঙ্গের বহু তৃণমূল নেতা-কর্মী যে ক্রমশ নতুন শাসক দলের দিকে ঝুঁকছেন, পান্নালাল হালদারের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ তারই আরও এক বড় প্রমাণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। এই ঘটনার পর তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁদের এই বিধায়কের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয় কিনা, এখন সেটাই দেখার।