অ্যাকাডেমিতে ‘শক্তি’র টানে শমীক, মঞ্চে অভিনেতা তৃণমূল সাংসদ পার্থ, গ্রিন রুমে গিয়ে অভিনন্দন বিজেপি সভাপতির

রাজনীতির ময়দানে দুঁদে দুই প্রতিপক্ষ, কিন্তু নাটকের মঞ্চের জাদুতে নিমেষেই মুছে গেল সমস্ত রাজনৈতিক বৈরিতা। কলকাতার সংস্কৃতিমনস্ক মহলে রবিবার এক নজিরবিহীন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ দৃশ্যের সাক্ষী থাকল অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস। দর্শকাসনে বসে মুগ্ধ হয়ে নাটক দেখলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, আর সেই নাটকের মঞ্চে প্রধান অভিনেতা হিসেবে দাপিয়ে বেড়ালেন তৃণমূল কংগ্রেসের হেভিওয়েট সাংসদ (MP) পার্থ ভৌমিক। নাটক শেষে সশরীরে গ্রিন রুমে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলের অভিনেতাকে অভিনন্দন জানিয়ে এক অনন্য নজির গড়লেন শমীক ভট্টাচার্য।
প্রিয় কবির টানেই অ্যাকাডেমিতে শমীক
বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সাহিত্য ও কবিতার প্রতি অনুরাগ সর্বজনবিদিত। তাঁর অন্যতম প্রিয় কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়। মূলত কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের জীবন ও সৃষ্টিকে কেন্দ্র করে তৈরি এই বিশেষ নাটকের টানেই এদিন অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু মঞ্চে যে অভিনেতা হিসেবে খোদ তৃণমূলের তারকা সাংসদ পার্থ ভৌমিককে দেখতে পাবেন, তা ছিল এক দারুণ চমক।
গ্রিন রুমে গিয়ে পিঠ চাপড়ালেন, মুগ্ধ বিজেপি সভাপতি
মঞ্চে পার্থ ভৌমিকের অভিনয় এবং গোটা নাটকের উপস্থাপনা এতটাই নিখুঁত ছিল যে, দর্শকাসনে বসে থাকা শমীক ভট্টাচার্য মন্ত্রমুগ্ধের মতো তা উপভোগ করেন। নাটক শেষ হতেই প্রোটোকল সরিয়ে রেখে সোজা ব্যাকস্টেজ বা গ্রিন রুমে চলে যান বিজেপি সভাপতি। সেখানে অভিনেতা পার্থ ভৌমিক এবং নাটকের বাকি কুশীলবদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাঁদের এই অসামান্য পারফরম্যান্সের জন্য ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আন্তরিক অভিনন্দন জানান।
শিল্পসত্ত্বাকে খুন করার অধিকার সরকারের নেই: শমীক
নাটক দেখে বেরোনোর পর এই যৌথ সাক্ষাৎকার ও সৌজন্য নিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন শমীক ভট্টাচার্য। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে মুক্তমনা শিল্পের সপক্ষে সওয়াল করে বিজেপি রাজ্য সভাপতি এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও কড়া বার্তা দেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন:
“শিল্পী এবং শিল্পসত্ত্বাকে খুন করার অধিকার কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তথা সরকারের নেই। নাটক নাটকের মতোই চলবে।”
রাজনীতির উগ্র দলাদলির ঊর্ধ্বে উঠে অ্যাকাডেমির গ্রিন রুমের এই চেনা সৌজন্যের ছবি প্রমাণ করে দিল, মতাদর্শের লড়াই যার যার জায়গায় চললেও, বাংলার শিল্প, সংস্কৃতি এবং নাটকের আঙিনায় আজও গুণগ্রাহিতার কদর সবার ওপরে। শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার জমানায় বিজেপি সভাপতির এই কড়া ও নিরপেক্ষ সাংস্কৃতিক বার্তা রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন সুস্থ পরিবেশের ইঙ্গিত দিচ্ছে।